
প্রকাশ: ১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬:৩০

আজ ১লা ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস। দেশের সর্ববৃহৎ রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লী বাসীদের মধ্যে মরণঘাতি এ রোগ নিয়ে তেমন কোন উৎকণ্ঠা না থাকলেও এখানকার যৌনকর্মী, খদ্দেরসহ যৌনপল্লী সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দা রয়েছেন চরম ঝুঁকির মধ্যে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, যৌনপল্লীতে তালিকাভুক্ত যৌনকর্মীর সংখ্যা ১৫২৬, তাদের বাবুর সংখ্যা ৫৬২, বাড়ীওয়ালী ২৮১ এবং যৌনজীবীদের শিশুর সংখ্যা ৬৫৩ জন। এর বাইরেও বয়স্ক নারী ও ব্যবসায়ী মিলে আরো প্রায় ২ হাজার মানুষের বসবাস এ পল্লীতে। অর্থাৎ যৌনপল্লীর প্রায় ৫হাজার বাসিন্দা যারা প্রত্যেকেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এইচআইভি এইডস সহ নানাবিধ যৌনরোগের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরেজমিন যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার পুরুষ এ পল্লীতে যাতায়াত করে। এর মধ্যে স্কুল ছাত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আসা ট্রাকচালকরাও রয়েছে। যার বেশীর ভাগ লোকজন দৈহিক মিলনে কনডম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনাগ্রহী। খদ্দেরের ইচ্ছা ও বেশী টাকার লোভে বেশীর ভাগ মেয়েই প্রতিনিয়ত অনিরাপদ মিলন করে থাকে। এ ছাড়া পল্লীর বহু মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তাদের আয়-রোজগার কম। নেশার টাকা যোগানো, খাবার ও ঘর ভাড়ার টাকা যোগাতে এ সকল মেয়েরা দৈহিক মিলনে নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করার সুযোগ পায় না।
এছাড়া কিছু মেয়ে রয়েছে বাড়ীওয়ালীদের কাছে জিম্মি। যার ফলে দৈহিক মিলনে এদেরও নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভাবার সুযোগ নেই। এছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণে পল্লীতে খদ্দের আসা কমে যাওয়ায় যৌনকর্মীরা যে কোন উপায়ে খদ্দের টানতে মরিয়া থাকে। অর্থাৎ সেখানে অবাধ যৌনতার কারণে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে এইচআইভি এইডস আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশী।

কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
বেসরকারী সংগঠন পায়াক্ট বাংলাদেশ দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মজিবর রহমান জুয়েল জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে তারা এখানে এইচআইভি এইডস বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে নানাধরণের কর্মসূচী পালন করছেন। পাশাপাশি তারা ২জন অভিজ্ঞ মোডকেল এসিস্টেন্টের (কাউন্সিলর) মাধ্যমে নানাবিধ যৌনরোগ সনাক্ত এবং বিনামূল্যে ঔষুধ ও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। কর্মসূচীর অংশ হিসেবে তারা প্রতি মাসে যৌনজীবীদের মাঝে প্রায় দেড় থেকে পৌণে ২ লক্ষ কনডম বিনামূল্যে বিতরণ করছেন। সচেতনতা বাড়াতে পল্লীতে তাদের নারী কর্মী বাহিনী প্রতিদিন উঠান বৈঠক, আলোচনা সভা, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করছেন। তবে যৌনজীবীদের নানাবিধ ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তাদের এ কর্মসূচীগুলোর সুফল পেতে বেগ পেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, এইডস ও অন্যান্য যৌন রোগের ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন বেসরকারী সংগঠনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগ এ পল্লীতে নানাবিধ কাজ করছে। তাদের কাজের নিয়মিত মনিটরিং ছাড়াও জটিল এবং সন্দেহজনক রোগীদের ক্ষেত্রে তারা চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে ১লা ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবসে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও পায়াক্ট বাংলাদেশ দৌলতদিয়া ঘাট শাখার পক্ষ থেকে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে।