
প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২১, ১:৪৩

'নৌকার সিল হবে ওপেন টেবিলে। একের অধিক সিল মারতে হবে। পুলিশ, প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা কিছু করতে পারবেন না।' নির্বাচনী পথসভায় এমন ঘোষনা দেন মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এম খালেক। তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্প্রতি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের পথসভায় তিনি এমন বক্তব্য দেন। ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের এই বক্তব্যেটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি জেলাব্যাপী সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে ষোলটাকা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচন করছেন দেলবার হোসেন। দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন আনোয়ার পাশা। এবং বিএনপি নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।
ভিডিওটিতে এম এম খালেককে বলতে দেখা যায়, ‘নৌকার সিলটি আমরা টেবিলে দেব আর সদস্যের সিলটি গোপন কক্ষে দেব। এখানে পুলিশ, প্রশাসন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা যাঁরা আছেন, তাঁদের কিছু করার নেই। তাঁদের কিচ্ছু বলার নেই। আমি ভোট দেব টেবিলে দেব, ওপেন দেব। যদি প্রশাসন বাধা হয়ে দাঁড়ায়, আমরা লন্ডনে থাকব না। আপনাদের আশপাশেই থাকব। ফোন খোলা থাকবে। আপনারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আপনাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং আছেন। আমাদের মন্ত্রী আছেন, এমপি আছেন। গণ্যমান্য নেতারা আছেন। আপনাকে ভোট দেওয়ার সময় যদি কেউ ঠেলা দেয়, তবে আপনিও তাকে ঠেলা দেবেন। আপনারা সেন্টার নিয়ন্ত্রণে নেবেন।’

ষোলটাকা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বক্তব্যেটি আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেকের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু আনসার বলেন, চলমান নির্বাচনে গাংনী উপজেলা থেকে তেমন কোনো প্রার্থীর অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।