
প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২১, ১৬:৩৯

নওগাঁয় পুলিশ ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সাড়ে ৫ঘন্টা আন্ত:জেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকার পর রাত সাড়ে ১২টা থেকে পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়েছে।বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পরিবহন শ্রমিক -পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় আন্তজেলা বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন।
সংঘর্ষের সময় পুলিশের একটি ভ্যান ও একটি বাস ভাঙচুর এবং পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। এর পর জেলা রাত ১০টার দিকে জেলা পুলিশের সাথে জরুরি বৈঠকে বসে নওগাঁ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। মিটিং শেষে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাস চলাচল চালুর ঘোষণা দেয়া হয়।
এ বিষয়ে নওগাঁ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্তজেলা বাস চলাচল বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছিল। রাত সাড়ে ১২টা থেকে আবার পুনরায় বাস চালু শুরু হয়েছে। জেলা পুলিশের সাথে জরুরি আমরা জরুরি বৈঠকে বসেছিলাম। তার পর আমরা বিষয়টি সুরাহার জন্য উভয় পক্ষ সম্মতি জানাই। বর্তমানে বাস চলাচল সচল রয়েছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
তিনি আরো বলেন, পুলিশ-শ্রমিক উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছিল। যার কারনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু বাস চলাচল বন্ধ রেখে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি হোক তা আমরা চাইনা। যার কারনে বাস চলাচলের সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যা ৫টার দিকে নওগাঁ পুলিশ লাইনস-সংলগ্ন মশরপুর এলাকায় নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কে নওগাঁ ট্রাভেলস পরিবহন নামের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের এক যাত্রী আহত হন। এ ঘটনায় ওই মোটরসাইকেলের যাত্রী নওগাঁ সদর থানায় অভিযোগ করলে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশের একটি টিম সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই বাসের চালক সুলেমান আলীকে ধরতে বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যায়।

এ সময় শ্রমিকেরা পুলিশকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই বাসচালককে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় শ্রমিকেরা বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন প্রধান সড়কে অবস্থান নেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। এ সময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। তার পর সাড়ে ৫ঘন্টা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছিল পরিবহন শ্রমিকরা।