
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২১, ০:৫৩

নওগাঁয় গোসল করতে নেমে পুকুরে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শহরের আরজি নওগাঁ এলাকায় শনিবার দুপুর ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত চার শিশু হলো স্থানীয় টুকু মন্ডল এর ছেলে ফরহাদ হোসেন (৭) ও তার মেয়ে সুরাইয়া খাতুন (৯), আনোয়ার হোসেন এর মেয়ে আশা খাতুন (১০) এবং আব্দুস সালাম এর মেয়ে খাতিজা খাতুন ( ৮) সবাই শহরের আরজী নওগাঁ মহল্লার বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, দুই শিশুকে পুকুর পাড়ে কাঁদতে দেখে আমরা কয়েকজন কাছে যাই। তখন তারা বলে পুকুরে ডুবে গেছে ৪জন শিশু। এর পর আমরা একজনকে পাঠাই দ্রুত তাদের পরিবারকে খবর দিতে। অন্যদিকে আমরা কয়েকজন পুকুরে নেমে শিশুদের উদ্ধার করি। তবে পুকুর পারে তোলার পর স্থানীয় ডাক্তারকে কে খবর দিলে তিনি এসে ৪শিশুকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।
নিহত শিশু ফরহাদ ও সুমাইয়ার পিতা টুকু মন্ডল জানান, বাসায় আমরা কাজ করছিলাম। বেলা তিনটার দিকে স্থানীয় একজন এসে জানায় আমাদের সন্তানরা পুকুরে ডুবে গেছে। তার পর গিয়ে দেখি স্থানীয়রা পুকুরে নেমে উদ্ধার করছে। তবে আমার ছেলে-মেয়ে ততক্ষনে মারা যায়। আমরা জানতাম না তারা পুকুরে নামবে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি


নিহত আশা খাতুনের পিতা আনোয়ার হোসেন বলেন, কি আর বলবো মেয়েটা চলেই গেল আমাদের ছেড়ে। ভুল আমাদেরই একটু সাবধানে মেয়েটাকে রাখতে হতো। আমাদের ভুলের কারনে আজ মেয়েটাকে হারালাম।
নিহত খাতিজা খাতুন এর পিতা আব্দুস সালাম জানান, যদি একটু মেয়েটার প্রতি খেয়াল রাখতাম তবে আজ এমন আঘাত পেতে হতোনা। কখন যে খেলতে খেলতে পুকুরে নামলো বুঝতেই পারিনি। মেয়েটা আর বাবা বলে ডাকবেনা।
নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়ের জানান, শনিবার বেলা ৩টার দিকে ছয় শিশু বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে খেলতেছিল। এসময় ৪জন শিশু গোসল করতে করতে। সেখানের চারজন পানিতে নেমে ডুবে যায়। বাকি দুজনের কান্নাকাটি শুনে প্রতিবেশীরা ডুবে যাওয়া চার শিশুকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে স্থানীয় এক চিকিৎসক তাদের সবাইকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের অসাবধানতার কারনেই এমনটা ঘটেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।