
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২১, ২১:৩৭

আগামী ২ নভেম্বর তৃতীয়বারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পোস্টার-ব্যানার, ও প্রচার প্রচারণায় মুখর ঘোড়াঘাট পৌরসভা। নির্বাচনে বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা শেষ সময়ে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে। আর সেই সাথে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছুটছেন সাধারণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। সব মিলে ঘোড়াঘাট পৌর সভায় নির্বাচনের উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, এবারে ঘোড়াঘাট পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী ৫ জন। এদের মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে ইউনুছ আলী, বিএনপি নেতা বর্তমান মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে আব্দুল সাত্তার মিলন, জগ প্রতীক নিয়ে আবুল কালাম আযাদ, মোবাইল প্রতীক নিয়ে আব্দুল মান্নান ও রেললাইন প্রতীক নিয়ে রিপন আহম্মেদ রানা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৭ জন এবং সংরক্ষীত মহিলা কাউন্সিলর পদে লড়াই করছেন ১০ জন প্রার্থী।
নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন মার্কা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। পৌর এলাকার প্রতিটি অলি গলি পোস্টার আর ব্যানারে ছেঁয়ে গেছে। এলাকার বিভিন্ন মোড়, রাস্তায় আর হোটেলসহ বিভিন্ন বাড়ি অফিস এবং দেওয়ালে ছেঁয়ে গেছে পোস্টারে। প্রতিটি ওয়ার্ডে মেয়র প্রার্থীসহ কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচনীয় অফিস বসিয়েছেন। পাশাপাশি প্রার্থীরা ভোটারদের নিজেদের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে অংশ নিচ্ছেন উঠান বৈঠক, পথসভা, মিটিং, মিছিলে। এছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২ ঘটিকা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলছে মাইকের মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা। সব মিলে প্রার্থীর যেন দম ফেলার সময় নেই।
ভোটাররা জানান, এবারের নির্বাচনে পৌরসভার সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন এবং উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন এমন প্রর্থীকে আমরা নির্বাচিত করতে চাই। বুঝে শুনে চিন্তা ভাবনা করে ভোট দিতে চায় তারা। এবারেই প্রথম পৌর নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি ভোট গ্রহণ হতে যাচ্ছে তাই আমরা একটু চিন্তিত। তবে ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে ইভিএম মেশিন এর ব্যবহার ভোট প্রদানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছেন ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার নাজমুল হোসেন বলেন, ২৪ ঘণ্টা প্রার্থীরা আসছেন ভোট চাইতে। সাবাইকে বলছি ভোট দিবো, কিন্তু যাকে তাকে ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট করবো না। ৪ নম্বর ওয়ার্ডসহ অত্র পৌর সভার বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করতে পারবে এমন ব্যক্তিকেই নির্বাচিত করতে চাই। তাই যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেবো।

২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন, ভোট আসলে সবাইকে দেখা যায়। ভোট শেষ হলে আর কারো ছায়াও দেখা যায় না। যাকে ভালো মনে হবে তাকেই ভোট দেবো।৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সাহেব মিয়া বলেন, গত নির্বাচনে ওয়ার্ডবাসী আমাকে ভালবেসে ভোট দিয়ে কাউন্সিলর বানিয়েছেন। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী ওয়ার্ডবাসীর চাহিদা পূরন করেছি। এবারও নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। আশা করছি এবারও তারা আমাকে ভোট দেবেন এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন।
ঘোড়াঘাট পৌর নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মেয়র প্রার্থী ইউনুছ আলী বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ নিয়ে স্হানীয় সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক এর দিক নির্দেশনায় পৌর সভার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি এবারের নির্বাচনে বিপুল জয় লাভ করবো ইনশাআল্লাহ।
পৌর সভার নির্বাচনে নারিকেল গাছ মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বিএনপি নেতা ও বর্তমান মেয়র আব্দুল সাত্তার মিলন বলেন, ঘোড়াঘাট পৌরসভা হওয়ার পর থেকে দুইবার আমি মেয়র পদে জয়লাভ করেছি। এবার জয় পেলে তৃতীয়বারের মতো মেয়র হতে পারবো। পৌরবাসী আমার পক্ষে আছে। আবারও মেয়র হলে আমি পৌরসভায় যে সমস্ত উন্নয়ন কাজ বাঁকি আছে সেগুলি করার চেষ্টা করবো।
ঘোড়াঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মমিনুল ইসলাম বলেন, আগামী ২ নভেম্বর ঘোড়াঘাট পৌরসভার নির্বাচন ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠু অবাদ-নিরোপক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ব্যবস্থা আমরা গ্রহন করবো। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও আনসার ভোটকেন্দ্রে থাকবে।