
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৪:৪৯

কুমিল্লার দেবীদ্বারে যুবলীগের শান্তি-সম্প্রীতির সভা অশান্ত রূপ নিয়েছে। শান্তি-সম্প্রীতির সভার এক দিন পার হলেও ব্যানার ধরাকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের রেশ এখনো থামেনি। দু'গ্রুপের মধ্যে রবিবার দিনব্যাপী চলছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা।
দেবীদ্বার পুরাতন বাজার গোমতী বেড়িবাঁধ এলাকায় দু'পক্ষের ছিল শক্ত অবস্থান, দ্বিতীয় দিনে হামলার ঘটনায় দু' গ্রুপের সংঘর্ষে দোকানপাট ভাঙচুর সহ আহত অন্তত ১৫ জন। ঘটনা সামাল দিতে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে ছিল তৎপর। থমথমে পরিস্থিতি কাজ করছে দেবীদ্বার পুরাতন বাজার এলাকা জুড়ে।
শনিবারের ঘটনায় জহির বাদী হয়ে দশজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন বলে জানা যায়,তবে এ মামলায় এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, গতকালের ঘটনার পর থেকে আজ রবিবার সারাদিন ব্যাপী দু'গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। আজ দুপুরে সংঘর্ষে জহির গ্রুপের গুরুতর আহত নোমান সরকার (৪৫)কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে এবং আব্দুল খালেক (৬৫)কে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি


অপরপক্ষ আনিস গ্রুপের মোঃ জসিম উদ্দিন (৪৮)'র দোকান ভাংচুর করে তাকে গুরুতর আহত করে, তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিতে চাইলে প্রতিপক্ষের বাঁধায় না পেরে, দেবীদ্বারের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়।
দু'গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা স্বীকার করে দেবীদ্বার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আরিফুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। কেউ অরাজগতা সৃষ্টি করতে চাইলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার বিকেলে কুমিল্লা উত্তর জেলা ও দেবীদ্বার উপজেলা যুবলীগের আয়োজনে শান্তি-সম্প্রীতি র্যালী ও আলোচনা সভা চলাকালে ব্যানার ধরাকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত: ১০জন আহত হলেও মারাত্মক আহত সোহাগ(১৯) ও মামুনুর রশীদ(২০)কে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে নেতা-কর্মীরা ‘স্বাধীনতা চত্তর’র বেধিতে জুতা পায়ে উঠে বক্তৃতা দেয়ার ঘটনাও ঘটে এবং সংঘর্ষ চলাকালে বেধির সৌন্দর্য বর্ধনে দৃষ্টিনন্দন ঝলক বাতির পিলারগুলোও ভেঙ্গে ফেলে।