
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২১, ২০:৪৬

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজা বন্ধ রয়েছে। সেই সাথে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্ব যেন থেমে গেছে। তাই দীর্ঘ দিন যাবৎ প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলিতে কিন্ডারগার্টেন স্কুল ক্যাম্পাসে সবজি চাষের এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ করেছেন স্কুলের পরিচালক ওবায়দুর রহমান।
ওবায়দুর রহমান তার এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার। তার স্বপ্ন ছিলো একদিন সে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করবে। তার সেই স্বপ্ন পুরন করতে সময় লেগেছে একযুগ অর্থাৎ ১২ বছর। আর সেই স্বপ্নের স্কুলটির নাম দেন "ড্রীমল্যান্ড স্কুল" (স্বপ্নরাজ্য)। হাকিমপুর( হিলি) থানা রোডের পশ্চিম পার্শে ' বাংলাহিলি ড্রীমল্যান্ড স্কুলটি অবস্থিত।
করোনা কালীন সময়ে প্রায় দেড় বছর যাবৎ প্রতিষ্ঠান বন্ধ। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে ছেলের অনুপ্রেরণায় তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছেন। ক্যাম্পাসের ভিতরের অংশ বাদ দিয়ে পরিত্যক্ত অংশে সবজি চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি। বর্তমানে এই স্কুল ক্যাম্পাসের সবজি বাগানে, লালশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, ঢেঁড়স, মিষ্টিকদু, লাউসহ হরেক রকমের সবজি রয়েছে। এছাড়াও এখানে পেয়ারা ও লেবুর গাছ লাগানো হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি বাগানের সবজি গাছের জন্য মাচা (ঝাংলা) তৈরি করেছেন। দীর্ঘ দিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছেলে ইফতি রিফাতকে সাথে নিয়ে অবসর সময়ে সবজি বাগানের দেখভাল ও পরিচর্যা করেন ওবায়দুর রহমান। ছেলের অনুপ্রেরণায় শখের বসে এই সবজি বাগান বলে জানান তিনি। এতে তার সময় এখন বেশ মজাতেই কাটচ্ছে।
ওবায়দুর রহমান সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার নিজস্ব আইডিতে তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। তার বক্তব্যটি এখানে তুলে ধরা হলো।"শখের বসে আমার স্কুলের নামও রেখেছিলাম “বাংলাহিলি ড্রীমল্যান্ড স্কুল ” স্বপ্নরাজ্য” স্কুলের নামটির সাথে বাস্তবতাকে একত্রিত করার এটাই সুযোগ। যেখানে শিশুরা ভিন্ন আঙ্গিকে পড়াশোনার মাধ্যমে জীবন গঠন করার নিমিত্তে জ্ঞান অর্জন করবে। ভালো রেজাল্টের পাশাপাশি তারা একজন মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে তৈরি করবে-চলছিল সবই ঠিকঠাক মতো-মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ বদান্যতায়। স্কুল দাঁড় করাতে ব্যয় করেছি দীর্ঘ একযুগ।
দাঁড়িয়েও গিয়েছিলো মোটামুটি ভাবে (শেষ ৫ম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় হাকিমপুর উপজেলায় -১ম(ছেলে) ৩য় (মেয়ে) স্থান সহ ৮জন ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি এবং জেএসসি পরীক্ষাতেও উপজেলায় সম্মানজনক অবস্থান)। এটির সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আরও একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলাম।একযুগের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, পাশাপাশি সম্মানিত শিক্ষক মহোদয়গণের সহযোগিতায় ঠিক যে সময়ে স্কুলগুলো হাটি হাটি পা পা করে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছেছে, ঠিক সেসময়ে করোনার করাল গ্রাসে স্কুল গুলো বন্ধ প্রায় দেড় বছর যাবৎ।

কিছুটা ডিপ্রেসড -অবসাদগ্রস্থতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল এ মন -সে সময়ই মহান সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় ত্রাতা হয়ে এসেছিলো আমারই একমাত্র ছেলে এস এম ইফতি রিফাত। তার দেখানো পথেই আজ আমি এ পথে,একজন শিক্ষানবিশ কৃষক-শ্রেষ্ঠ পেশা আমার মতে (সেও ছোটো পরিসরে একটি ফুলের বাগান তৈরি করেছে)।
ঋণী হয়ে থাকলাম পিতা হিসেবে সন্তানের নিকট। কায়িকশ্রমের ব্যাপারে বরাবরই অনীহা কাজ করেছে আমার মধ্যে, যেটিতে আমার অভিভাবকরাও ব্যর্থ। ঠিক সেখানেই সফল আমার ছেলেটি। ছেলেটির কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে, বেশ কিছুদিন দুজনের নিরন্তর খাটুনির পর এ পর্যায়ে এ সবজি বাগান'।এতো কিছুর পরেও সৃষ্টিকর্তার নিকট কায়মনোবাক্যে চাওয়া প্রতিষ্ঠান গুলো খুলে যাক, খাঁ খাঁ করা ক্যাম্পাসগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসুক পূর্বের ন্যায়-মহান সৃষ্টিকর্তা করোনা অতিমারি থেকে মুক্ত করে- অচিরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো জীবন্ত করে আমাদের ডিপ্রেশন কমিয়ে দেবেন-এ কামনা নিরন্তর।