
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২১, ৩:১৯

বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ড. বেনজির আহম্মেদসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণের পরিচয় ও ছবি ব্যাবহার করে হোয়াটসআ্যাপ ও ফেসবুক আইডি খুলে প্রতারনার অভিযোগে নওগাঁয় আমিনুল ইসলাম নামে এক প্রতারকে আটক করেছে পুলিশ। সদর উপজেলার খাগড়া গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। সে ওই গ্রামের আফছার আলী ছেলে। পেশায় একজন মুদি দোকানী।
রোববার বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া,বিপিএম।
পুলিশ সুপার বলেন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির সরকারি নাম্বারে হোয়াটস্যাপ আইডিতে বেনজির আহম্মেদ ইউনিফর্ম পরিহিত ছবিযুক্ত করে হোয়াটসঅ্যাপ থেকে হায় নামে মেসেজ আসে। পরে ডিআইজির মোবাইলে সেভকৃত আইজিপি নম্বরের কোন মিল না থাকায় সন্দেহ হলে ডিআইজি নিশ্চিত হওয়ার জন্য উক্ত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল দিলে কেউ ফোন রিভিস করে না।

কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
পরে বিষয়টি আইজিপিকে জানালে আইজিপি তাৎক্ষনিক উক্ত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যাবহারকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে আমাকে অবহিত করলে জেলা পুলিশের সাইবার টিমের সভাপতি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমানের নেতৃত্বে সাইবার টিমের সদস্যরা উক্ত হোয়াটসঅ্যাপ ব্যাবহারকারীর পরিচয় শনাক্ত করে তাকে আটক করে ও ব্যাবহারকৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করে।
পুলিশ সুপার বলেন, আটকের পর প্রাথমিক জিঞ্জাসাবাদে আসামি জানান, প্রায় ১০ থেকে ১২দিন আগে প্রতারক আমিনুল ইসলাম পুলিশের আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদ এর নাম ও ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটস আপ আইডি এবং আমিনুল ইসলাম ও আমিনুল খান নামে দুটি ফেসবুক আইডিতে খুলে নামের শেষে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব বাংলাদেশ পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করে সেই আইডিগুলো থেকে বেশ কিছু দিন ধরে পুলিশের বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন। পরে এসব ম্যাসেজের স্কিনশট দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছে বলে বেড়াতো যে, তার সাথে বড় বড় অফিসারদের সম্পর্ক আছে। এবং পুলিশ অফিসারদের ছবি ব্যাবহার করে সহজ সরল সাধারন মানুষদের সাথে প্রতারণা ও এলাকায় প্রাধান্য বিস্তারের চেষ্টা করতো। এমনকি এলাকার মানুষের সাথে খারাপ আচরন ও মারামারি করতো সে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ জেলা পুলিশের সাইবার টিম অনুসন্ধান চালিয়ে শনিবার সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, আইজিপির নাম ও হোয়াটসঅ্যাপ খুলে অবৈধ সুবিধা নিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে। তবে সে আইজিপি বা কোন উর্ধতন কর্মকর্তার নাম ব্যাবহার করে আর কোন পুলিশ সদস্য অথবা কোন সাধারন মানুষের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেন বা সুবিধা লাভ করছে কি না সে ব্যাপারে আদালতে তুলে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রেসব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ) কে,এম,এ, মামুন খান চিশতী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ক্রাইম ) গাজিউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার ( ডিএসবি ) সুরাইয়া খাতুন, নওগাঁর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি ) নজরুল ইসলাম জুয়েল এবং ডিবি পুলিশের ওসি কে এম শামসুদ্দিন।