
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২১, ৪:৭

বৈশ্বিক মহামারীর কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে জীবন ও জীবিকার চাকা সচল রাখতে টানা ১৯ দিন পর লকডাউন শিথিল করেছে সরকার। চালু হয়েছে গণপরিবহন চলাচল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বরিশাল নৌবন্দরে সেই পূরণো রুপ ফিরে পেয়েছে।
সরকার বিধিনিষেধ তুলে নিলেও গণপরিবহনসহ সবখানেই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। কিন্তু বিধিনিষেধ না থাকার প্রথম দিনেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে নৌবন্দরে।
লঞ্চে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দেখা মেলেনি। যদিও বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবী, স্বাস্থ্য সচেতনতায় মাইকে প্রচারণার পাশাপাশি লঞ্চে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রকোপে থমকে আছে পুরো বিশ্ব। প্রতিদিনই করোনায় প্রাণ হারাচ্ছেন হাজারো মানুষ। সংক্রমণে অসুস্থের হার যেন লাগামছাড়া। বাড়ছে হাসপাতালগুলোয় উপচেপড়া ভিড়।
সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের জীবিকার সংকট। এখন সবার সামনেই যেন এসেছে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সময়। আর ঠিক সেই মুহূর্তে মানুষের জীবন ও জীবিকার চাকা সচল রাখতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বাংলাদেশের প্রশাসন।
তবে মহামারি দুর্যোগের এমন সময়েও সঠিক পদক্ষেপ নিতেও ভুল করছে না সরকার। মানুষের জীবন ও জীবকার চাকা সচল রেখে লকডাউনে শিথিলতা আনা হয়েছে। টানা ১৯ দিন পর শিথিল হলো বিধিনিষেধ। আর এর মধ্য দিয়ে বরিশালে যেন শেষ হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের প্রবণতাও।
লকডাউন শিথিলের ঘোষণায় বুধবার সকাল থেকেই নদী বন্দরে ভীর বাড়তে থাকে। বিশেষ বিকেলের পরে নদী বন্দরে ঢাকাগামী মানুষের ঢল নামে। লকডাউনের কারণে দীর্ঘ দিন আটকে থাকা মানুষগুলো পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় যাত্রা করেন।
তবে যেসব শর্তে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে সেসব শর্ত পালন হচ্ছে না নৌ বা সড়ক পথে। এমনকি সামাজিক দূরত্ব দূরের কথা মাস্ক নেই অধিকাংশ যাত্রীর মুখে। যে যেভাবে পারছে গাদাগাদি করে লঞ্চ এবং বাস ভ্রমণ করছেন।

সরেজমিনে গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) রাতে বরিশাল নদী বন্দরে দেখা যায়, ঢাকাগামী মানুষের ঢল নেমেছে। লকডাউন শিথিলের প্রথম দিনে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ৮টি যাত্রীবাহী লঞ্চ। প্রতিটি লঞ্চের ডেকেই যাত্রীতে ভরপুর। ডেকে জায়গা না থাকায় কেবিনের বারান্দা এবং লঞ্চের আন্নীতেও চাদর বিছিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন অনেকে।
নদী বন্দর এবং লঞ্চে অবস্থান নেয়া যাত্রীরা মাস্ক না পরার কারণ হিসেবে হিসেবে নানা অজুহাত সামনে নিয়ে আসেন। কেউ বলছেন ভীরের মধ্যে মাস্ক পরে থাকতে শ্বাসকষ্ট হয়। আবার কেউ বলছেন খাবার এবং তামাক সেবনের জন্য মাস্ক থুতনিতে ঝুলিয়ে রাখছেন।
এদিকে লঞ্চে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হলেও নদী বন্দর কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দেখা মেলেনি। বন্দর কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান দাবি করেছেন স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ণে লঞ্চে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। করা হচ্ছে সচেতনতামূলক মাইকিং। কিন্তু বাস্তবে বন্দর কর্মকর্তার এমন দাবির প্রমাণ পাওয়া যায়নি নৌবন্দরে।
অপরদিকে বিধিনিষেধ শিথিলের প্রথম দিনেই বরিশালের গণপরিবহনগুলোতে যাত্রী কিংবা চালকদের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে দেখা যায়নি। সবকিছু খুলে যাওয়ায় স্বাভাবিক সময়ের মতোই চলেছে গণপরিবহন, খোলা রয়েছে সব ধরনের অফিস-দোকান-রেস্তোরাঁ। বলা চলে, সেই চেনা রূপেই ফিরেছে বরিশাল নগরী।
নগরীর বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, শপিং মল ও প্রধান প্রধান সড়কগুলো ঘুরে দেখা গেল এমন চিত্র। কোনো জায়গাতেই সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি কাউকে। মাস্ক ব্যবহারেও অনীহা দেখা গেছে অনেকের মধ্যেই।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, সব ধরনের গণপরিবহন চলছে। বাসের হেলপার হাঁকডাক দিয়ে যাত্রী তুলছেন। গণপরিবহনে আসনসংখ্যার সমান যাত্রী পরিবহনের কথা থাকলেও অনেক বাসেই আসন পূরণ হওয়ার পর দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। যাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বালাই নেই।
প্রসঙ্গত: করোনা সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরতে গত ১ জুলাই থেকে শুরু হয় কঠোর বিধিনিষেধ। ঈদুল আজহা সামনে রেখে ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল ছিল। পরে ২৩ আগস্ট থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। আরও এক দফায় বাড়িয়ে বিধিনিষেধের মেয়াদ ১০ আগস্ট করা হয়। গত ১১ আগস্ট থেকে আর কোনো বিধিনিষেধ ছিলনা। তবে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।