
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২১, ৪:৩১

করোনার সংক্রমণ রোধে এবং পৌরসভায় বসবাসরত সকল নাগরিকদের করোনার টিকা শতভাগ নিশ্চিত করতে দিনাজপুরের হাকিমপুর পৌরসভার সকল কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বেতন গ্রহণে টিকা কার্ড অবশ্যই দেখাতে হবে। টিকার কার্ড দেখাতে ব্যর্থ হলে বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত। সেই সাথে পৌরসভার সেবা গ্রহণেও দেখাতে হবে টিকার কার্ড। চালু হতে যাচ্ছে "নো সার্টিফিকেট নো সার্ভিস" নামের নতুন কর্মসূচি।
হাকিমপুর পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত, করোনার টিকা নেওয়ার সুযোগ থাকার যে সমস্ত কর্মকর্তা- কর্মচারীরা টিকা নিবে না তাদের বেতন বন্ধের ঘোষণা দেন। বেতন গ্রহণে টিকার কার্ড অবশ্যই দেখাতে হবে। এমন ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যে পৌরসভায় কর্মরত স্হায়ী, অস্থায়ী মিলে মোট তেত্রিশ জনের মধ্যে আটাশ জন টিকা নেওয়ায় তাদের বেতন ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং বাকী পাঁচ জনের বেতন সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদের মধ্যে দুই জন নারী অন্তঃসত্ত্বা সে কারণে তাদের ছাড় দেওয়া হয়েছে তারা পরবর্তীতে টিকা নিবে। গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত শুধুমাত্র এমএলএস মনিরুল ইসলাম বাদে সকলেই টিকা নিয়ে বেতন গ্রহণ করেছেন। মনিরুল টিকার জন্য আবেদন করলেও এসএমএস না আসায় টিকা নিত না পারায় তার বেতন স্থগিত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পৌর জামিল হোসেন চলন্ত। ( মনিরুল টিকা গ্রহণের কার্ড দেখিয়ে বেতন গ্রহণ করতে পারবে)। তবে টিকার সরবরাহ কম থাকায় এখনো পৌর শহরে বসবাসকারী পঁচিশোর্ধ্ব সবার টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানান তিনি।
এর আগে করোনা মহামারির শুরুতে মেয়র পৌর শহরে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস' কর্মসূচি চালু করেছিলেন। তাঁর এ কর্মসূচিতেও সাড়া দিয়েছেন পৌরবাসী। মেয়র ও পৌর শহরের বাসিন্দারা মনে করছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কারণে সীমান্তবর্তী এবং স্থলবন্দর এলাকা হওয়া সত্ত্বেও জেলার অন্যানয় উপজেলার তুলনায় এ উপজেলায় করোনা সংক্রমণের হার অনেক কম।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত জেলায় ৬৭ হাজার ৫১২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৩ হাজার ৩৯৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৬৩ জন। তাঁদের মধ্যে হাকিমপুর উপজেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩০৪ জনের আর মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা তৌহিদ আল হাসান জানান, গণটিকা কার্যক্রমের আওতায় গত শনিবার ২ হাজার ৪০০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এর আগে আরও ৩ হাজার ৮০০ জন টিকা গ্রহণ করেছেন, যাঁদের অধিকাংশই পৌর এলাকার বাসিন্দা। টিকা কার্যক্রম চলমান।
হকিমপুর পৌর মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত বলেন, করোনা সংক্রমণের প্রথমের দিকে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস'কর্মসূচি চালু করে আমরা সফল হয়েছি। জেলার অন্যান্য উপজেলার চাইতে হাকিমপুরে করোনা সংক্রমণের হার অনেক কম। তারই ধারাবাহিকতায় টিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতে এবং প্রত্যেকের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে এই ধরনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পৌরসভার কর্মকর্তা–কর্মচারীদের টিকার বিষয়টি আগে নিশ্চিত করা হয়েছে। খুব অল্প সময়ে নতুন কর্মসূচি ' নো সার্টিফিকেট নো সার্ভিস' চালু করা হবে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পৌর এলাকায় প্রায় ২৮ হাজার মানুষের বসবাস। হাকিমপুর উপজেলায় প্রথম শতভাগ টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে চাহিদা মোতাবেক করোনার টিকা সরবরাহে জেলা সিভিল সার্জনসহ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।