
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২১, ২২:৫৬

আমেনা বেগম। বয়স (৯০)। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া আমেনা বেগম শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে জীবনের শেষ বয়সে এসে ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যান এর কাছে ঘুরছে বিচারের আশায়।দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের কুশাপাড়া গ্রামের মৃত আমজাদ আলীর স্ত্রী আমেনা বেগম।
স্বামীকে হারিয়েছেন আজ থেকে ৩০ বছর আগে। স্বামী মারা যাওয়ার পড়ে একমাত্র মেয়েকে অনেক কষ্টে লালন পালন করে এক সময়ে বিয়ে দেন। এরপর স্বামীর রেখে যাওয়া বসত ভিটার তিনশতক জায়গার উপরে মেয়ে আর নাতি- নাতনিকে নিয়ে মিলে মিশে থাকতেন আমেনা বেগম। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস একমাত্র মেয়েটিও মারা যায়। বৃদ্ধ বয়সে দিনরাত পরিশ্রম করে নাতি-নাতনিকে বড় করেন। আমেনার বয়স বেশি হওয়ায় লাঠির উপর ভর করে কোন রকমে হাঁটাচলা করেন তিনি। তবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা হয়েছে তার।
নাতি শাহা আল নানী আমেনা বেগমকে বিভিন্ন আশা দেখিয়ে তার শেষ সম্বলটুকু বাড়িভিটে নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি ছিলো যতদিন নানী বেঁচে থাকবেন ততিদন নাতি শাহা আলম তার সব ভরণপোষণ চালিয়ে যাবে। কিন্তু কোন শর্তও পালন করছেন না তার নাতি। বৃদ্ধ বয়সে এখন প্রায় সময় তাকে অনাহারে থাকতে হয়। শারীরিক অত্যাচার করে নাতি শাহা আলম তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে, এমন অভিযোগও মিলেছে। সব হারিয়ে ন্যায্য বিচার এবং স্বামীর ভিটেবাড়ি ফিরে পাবার আশায় বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর সহ ঘুরছেন তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে।
বৃদ্ধা আমেনা বেগম বলেন, মোর তোরা বিচার করে দেও? মুই আর অত্যাচার সহ্য করবা পারছু না। নাতি কইছে খাওন দিবি, কাপড়া দিবি, যতিদিন মুই বাঁচমু সব দিবি। এই বলে মোর তিন শতক জায়গা-কোনা লিখে নিছে। এখন কিছুই দেয় না। ঘাড়ধাক্কা দিয়ে মোক বায়ীত্তে (বাড়ি থেকে) বেড় করে দেছে। তোরা এর বিচার করে দেও, মোর স্বামীর ভিটেবাড়ি নিয়ে দেও বাবা?।

উপজেলার ৩ নং আলীহাট ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রহিম উদ্দিন জানান, আমেনা বেগমকে আমি চিনি এবং জানি। তার নাতি তার বাড়ির জায়গাটুকু লিখে নিয়েছে এবং তার কোন ভরণপোষণ দেয় না। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও এর বিচারের জন্য গেলে আমাকে বৃদ্ধা আমেনার বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আমি তার বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে সমাধানের ব্যবস্থা করবো।
এবিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নুর-এ আলম জানান, আলীহাট ইউনিয়নের কুশাপাড়া গ্রামের বয়স্ক আমেনা বেগম তার বিচার চাইতে আমার কাছে এসেছিলেন। আমি বিষয়টি উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে সঙ্গে সঙ্গে অবগত করেছি। চেয়ারম্যান বিয়ষটি তদন্ত সাপেক্ষে সমাধান করবেন।প্রয়োজনে আমি নিজেই ঐ বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে তার সমস্যার সমাধান করবো।
হাকিমপুর উপজেলার চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ হারুন জানান, আমার কাছে কুশাপাড়া গ্রামের বৃদ্ধা মহিলা আমেনা বেগম তার নাতির বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। তিনি একেবারেই বৃদ্ধ মানুষ, বিষয়টি অমানবিক এবং দুঃখজনক। আমি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি এর সঠিক ব্যবস্থা নিতে। প্রয়োজনে(ইউএনও)কে নিয়ে আমি সরেজমিনে যাবো।