
প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২১, ২২:৩১

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোলে বিষাক্ত রেকফাইড স্পিরিট পানে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সাথে স্পিরিট পানে সাবেক ইউপি সদস্যসহ আরও তিন জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পুলিশ স্পিরিট বিক্রেতা সনজিদ কুমার ভৌমিককে বিষাক্ত রেকটিফাইড স্পিরিটসহ আটক করেছে।
মৃতরা হলেন- সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল ওয়াহাব (৩২), সিকিম আলীর ছেলে মো.আব্দুল (৪৫) এবং সড়াইচন্ডি নতুনপাড়া গ্রামের কালু সেখের ছেলে তাহের সেখ (৪৮)।
অসুস্থ সাবেক ইউপি সদস্য বাবু সেখ ও হযরত আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে পুলিশকে না জানিয়ে সোমবার ভোরে দুই জনকে সোমবার সকালে দাফন করা হয়েছে এবং আরেকজনের মরদেহ পুলিশউদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, গত শনিবার (৭ আগস্ট) ৬ জন মিলে পাশ্ববর্তী কামারখন্দ উপজেলা সদরের কাকলী হোমিওপ্যাথিক দোকানদার সনজিদ কুমার ভৌমিকের কাছ থেকে রেকটিফাইড স্পিরিট কিনে শ্যামপুর এলাকার একটি শ্বশানঘাটের কালিমন্দিরের পাশে বসে সবাই মিলে পান করেন। এরপর সবাই যার যার বাড়িতে চলে যান। তিনি আরও জানান, ওইদিন কিছু না হলেও রবিবার (৮ আগস্ট) রাতে বিষক্রিয়া শুরু হওয়ায় ৬ জনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ৬ জনকেই জেলা সদরের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়।

৬ জনের মধ্যে সোমবারভোরে দুই জন হাসপাতালে এবং একজন হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। মৃতদের স্বজনরা পুলিশকে অবহিত না করে আব্দুল ওয়াহাব ও আব্দুলকে দাফন করেন। বিষয়টি সকালে জানতে পেরে দ্রুত পুলিশ ফোর্স নিয়েঘটনাস্থলে পৌঁছানো হয়। দাফনের পূর্ব মুহুর্তে তাহেরের মরদেহ উদ্ধারের পর সুরুতহাল শেষে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, স্পিরিট পানে অসুস্থ একজনের তথ্যের ভিত্তিতে কামারখন্দ বাজারের কাকলী হোমিওপ্যাথিক দোকানে অভিযানে চালিয়ে স্পিরিট বিক্রেতা সনজিদ কুমার ভৌমিককে আটক করা হয় এবং তার দোকান থেকে বিপুল পরিমান রেকটিফাইড স্পিরিট জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিয়ালকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান শেখ জানান, ৬ জনই মাঝেমধ্যে মদপান করত। শুনেছি শনিবারও তারা মদপান করায় পরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে ৬ জনের মধ্যে তিনজন মারা যায়।