
প্রকাশ: ৭ আগস্ট ২০২১, ২২:৫৬

করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে দেওয়া লকডাউনে আজ শনিবার সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কম থাকলেও বাজারে ছিল উপচেপড়া ভিড়। এদিকে ফেরিঘাটগুলোতে অব্যাহত আছে ঢাকামুখী মানুষের চাপ। আবার অফিস-কলকারখানা খুলে দিয়ে কঠোর লকডাউন দেওয়ার এর সমালোচনা করেছেন সাধারণ মানুষ।
শনিবার গোয়ালন্দ বাজার, বাসষ্টন্ড, দৌলতদিয়া বাজার, ফেরিঘাট এলাকা ঘুরে এরকম দৃশ্যই দেখা গেছে। লকডাউনে শুরুর দিকে মানুষ বাইরে কম বের হলেও এখন বিভিন্ন প্রয়োজনে রাস্তায় নামছেন। তল্লাশি চৌকিগুলোতেও পুলিশের তৎপরতাও কমে গেছে। দিনের বেলায় বাজার এলাকাগুলোতে মানুষের বেশ ভিড় দেখা গেছে। সকাল থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বেরিয়েছিল অনেকে।
গোয়ালন্দ বাজারের মুদি ব্যবসায়ী বলেন, বিগত দিনের চেয়ে আজ শনিবার হাটের দিনে বাজারে ভিড় বেশি ছিল, দোকানে কেনাকাটায় চাপও বেশি ছিল। রফিক নামে এক ক্রেতা বললেন, শনিবার হাটের দিন তাই বাজার করতে আসা।
এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটে আসা ঢাকাগামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ফাতেমা নামে এক কর্মজীবী নারী বলেন, অফিস- টফিস, কলকারখানা খুলে দিয়ে বলা হচ্ছে লকডাউনে বাসায় থাকুন। এটা কেমন লকডাউন আমি বুঝি না। আমার কাছে মনে হচ্ছে, কোথাও গলদ আছে। সংক্রমণ রোধ করতে হলে অবশ্যই কঠোর লকডাউন এবং মানুষের জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একটা করবেন, আরেকটা করবেন না এটা হয় না।


দৌলতদিয়া ঘাটে আসা ঢাকামুখী কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে আরো কথা বলে জানা যায়, প্রয়োজন ও কর্মস্থলে যোগ দিতেই চরম ভোগান্তিকে সঙ্গী করে ঢাকা ফিরছেন তারা। পারভেজ নামের এক যাত্রী বলেন, লকডাউন বেড়েছে। কিন্তু আমরা তো কাজ করে খাই। কয়দিন আর বসে থাকা যায়। কামরুল ইসলাস নামের আরেক যাত্রী বলেন, দোকানদারি করে জীবন চালাই। বারবার লকডাউনের সময় বাড়ালেও তো আমাদের বসে থাকলে চলে না। ঢাকায় গিয়ে দোকানপাট খুলতে হবে। তাই যাচ্ছি।
এদিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ভিড় ছিল ঢাকামুখী যাত্রী ও যানবাহনের। বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ফেরিতে পার হয় শত শত যাত্রী। তবে দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের চেয়ে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বেশি ছিল।বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোঃ জামাল হোসেন জানান, সকাল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের কিছুটা চাপ রয়েছে দৌলতদিয়া ঘাটে। ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সবাই জরুরি প্রয়োজনের কথা বলছে, তাই যেতে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এ নৌরুটে ছোট বড় মিলিয়ে ১৬ টি ফেরি চলাচল করছে।