
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২১, ৩:৫৩

মহামারী করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে বন্ধ থাকা পোশাক কারখানাসহ শিল্প কলকারখানা ১ আগস্ট খুলে দেওয়ার ঘোষণায় সারাদিনই রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীদের ঢল নেমেছিলো। বাড়তি ভিড়ের কারণে ঘাট কর্তৃপক্ষ বেলা ১১টা থেকে ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর কয়েক ঘণ্টা পর বিকালের দিকেই কমতে থাকে যাত্রীর চাপ।
শনিবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে সাড়ে ৬টার দিকে সরেজমিনে দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ৫ নং পন্টুনের দুটি পকেটে দাঁড়িয়ে আছে দুটি ফেরি। ফেরিতে যাত্রী তেমন একটা চোখেই পড়েনি। তবে কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী ট্রাক ফেরিতে উঠতে দেখা যায়।
এর আগে বেলা ভোর থেকেই বিকাল ৪টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাটে ছিল জনস্রোত। মানুষের চাপে একটি ফেরিতেও কোন যানবাহন উঠতে পারেনি। প্রতিটি ফেরিতেই শতশত যাত্রী নিয়ে ঘাট ছাড়তে দেখা গেছে।
এমনকি যাত্রীদের চাপে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত উঠতে হিমসিম খাচ্ছে। ঘাট কর্তৃপক্ষ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ তৎপরতায় অ্যাম্বুলেন্সগুলো ফেরিতে উঠতে সক্ষম হয়।
ভোর থেকেই দৌলতদিয়া ঘাটে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বিভিন্ন উপায়ে ঘাটে আসা যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কঠোর লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে যানবাহন সংকটে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা এসব যাত্রীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে বিকেল থেকেই কোনো যানবাহন না থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে অনেকটা ফাঁকা অবস্থায় ফেরিগুলোকে পন্টুনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
তাছাড়া ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ছোট যানবাহনের চাপ ছিলো চোখে পড়ার মতো। একেবারে বিপাকে পড়া মানুষ বৃষ্টির মধ্যই বের হয়েছে। সেই বৃষ্টি-কাঁদা উপেক্ষা করেই অনেকেই আসছেন ফেরি ঘাটে। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ রিকশায় আবার কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে।

অনেককে দেখা গেছে দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রিজার্ভ করে ঘাটে আসছেন ঝুঁকি নিয়ে। তারা এসে সরাসরি ফেরিতে উঠছেন।
মধুখালি থেকে অটোরিকশায় দৌলতদিয়া ঘাটে আসা মজিবর রহমান জানান, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার অফিস রোববার খোলা। চাকরির সুবাদে যেতেই হবে ঢাকায়। স্ত্রীসহ ছোট বাচ্চা নিয়ে যেতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। তারপর আবার একটু পরপর বৃষ্টি। কঠোর লকডাউনের মধ্যে ঢাকা যাওয়া খুবই কষ্টকর। কিছু করার নেই কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়েই যেতে হচ্ছে এখন।
এ্যাম্বুলেন্স চালক শিমুল বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে প্রচুর মানুষ আসছে। প্রতিটা পন্টুনে যাত্রীর চাপ। ফেরি আসার সাথে সাথেই যাত্রীরা পন্টুনের উপর উঠে যাচ্ছে। আমরা ফেরিতে উঠতে পারছি না। প্রায় ঘণ্টাখানেক এখানে দাঁড়িয়ে রয়েছি।
তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে যাত্রীর চাপ একেবারেই নেই। শুধু ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি ও পণ্যবাহী ট্রাক নদী পার হচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জামাল হোসেন বলেন, ভোর থেকে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের জন্য ৮টি ফেরি চলাচল করছে।
কিন্তু যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বেলা বাড়ার সাথে সাথে সাড়ে ১১টা থেকে ১৬টি ফেরি চালু করা হয়। যখন যে ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে ছাড়া প্রয়োজন সেখান থেকেই ছেড়ে যাচ্ছে এ সকল ফেরি।