
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২১, ২:৩৮

প্রতিদিনই নতুন শনাক্ত রোগী ও মৃত্যুর হারের ক্ষেত্রে রেকর্ড হচ্ছে কুষ্টিয়া জেলায়। তেমনি করোনার টিকা নিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। গত শনিবার (১০ জুলাই) থেকে কুষ্টিয়ায় শুধু একটি কেন্দ্রে করোনার টিকা দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। ফলে ভিড় বাড়ছে টিকা প্রত্যাশীদের টিকাদান কেন্দ্রের সামনে।
সোমবার এ চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ। টিকা নিতে আসা শত শত মানুষের ভিড় সামলে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। তবে টিকা প্রত্যাশীদের লাইনে মানা হয়নি সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা। অনেকের মুখেও ছিল না মাস্ক।
এদিকে ভিড়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দুপুর পৌনে ১২টার দিকে টিকা ফুরিয়ে যায়। টিকা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিজেদের গন্তব্যে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, শনিবার (১০ জুলাই) থেকে কুষ্টিয়ায় শুধু একটি কেন্দ্রে করোনার টিকা দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে দুদিন ধরে কুষ্টিয়া আরপিটিআই কার্যালয় কেন্দ্রে এ টিকা দেয়ার কার্যক্রম চলছিল। কিন্তু সেখানে মানুষের উপচেপড়া ভিড়ের কারণে স্থান সংকুলন না হওয়ায় রোববার কেন্দ্র পরিবর্তন করে পাশেই কুষ্টিয়ার কলকাকলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নেয়া হয়।
সোমবার সকালে সরেজমিনে কুষ্টিয়া কলকাকলি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, করোনা টিকাদান বুথের সামনে টিকা প্রত্যাশীদের দীর্ঘ সারি। বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষের একটিতে পুরুষ অন্যটিতে নারীদের টিকা দেয়া হচ্ছে। কক্ষ থেকে শুরু হওয়া লাইন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের মাঠ ছাড়িয়ে একেবারে প্রধান ফটকের বাইরে রাস্তায় গিয়ে ঠেকেছে। বাইরে ও সামনের সড়কে মানুষের দীর্ঘ লাইন। সব মিলিয়ে অন্তত চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ টিকা কেন্দ্রে জড়ো হয়েছেন।
টিকা নিতে আসা লাইনে দাঁড়ানো কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, গত চার দিন আগে তারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন। কিন্তু কোনো এসএমএস পাননি। তারপরও এসেছেন টিকা নিতে। আবার কয়েকজন জানান, তারা এসএমএস পাওয়ার পর টিকা নিতে এসেছেন।

টিকা নিতে আসা রোহান বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টায় এসেছিলাম। একটু আগে টিকা দিতে পারলাম। তবে ব্যাপক ভিড়, ধাক্কাধাক্কি; একটু ব্যবস্থাপনার অভাব বোধ করলাম।’
এদিকে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, শনিবার শুধু ৩২৬ জনকে টিকা নেওয়ার জন্য এসএমএস পাঠানো হয়েছিল। রোববার ৫০০ জন এবং সোমবার ৬০০ জনকে এসএমএস পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, যারা এসএমএস পাচ্ছেন কেবল তারাই টিকা নিতে পারবেন। কিন্তু কেউই কথা শুনছেন না। শুধু রেজিস্ট্রেশন কার্ড নিয়েই টিকা নিতে কেন্দ্রে চলে আসছেন।
আগের তুলনায় এখন টিকা নিতে ভিড় বাড়ার কারণ জানতে চাইলে সিভিল সার্জন জানান, আগে টিকা নেয়ার বয়স ছিল ৪০ বছর। এখন বয়স ৩৫ বছর করা হয়েছে। এছাড়া মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। যে কারণে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ টিকা নিতে কেন্দ্রে ভিড় করছেন।
এদিকে ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে টিকা কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এছাড়া যারা এসএমএস পাবেন কেবল তাদেরই মঙ্গলবার সকাল থেকে টিকা দেয়া হবে। কুষ্টিয়া শহরে এ সংক্রান্ত মাইকিং করার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানান জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।