
প্রকাশ: ৪ জুলাই ২০২১, ৭:৪৫

বাংলাদেশের অতান্ত প্রাচীন শহর হচ্ছে বরিশাল । ধান নদী খাল এই নিয়ে বরিশাল।এই কথাটি প্রচলন ছিল বরিশাল বিভাগ কেন্দ্রিক , তবে এ থেকে বেড়িয়ে এসেছে বরিশাল বিভাগ।নানামুখী ফসল থেকে শুরু করে শিল্প কারখানা এমনকি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা গভীর সমুদ্র কেন্দ্র এখন রয়েছে বরিশাল বিভাগে।তবে এখন পর্যন্ত এই বিভাগের প্রধান যানবাহন হচ্ছে লঞ্চ।
বিখ্যাত বিখ্যাত লঞ্চ রয়েছে এই বরিশাল বিভাগে।কিছুটা দুর্গম আর নদীমাতৃক হওয়াতে এই বিভাগে এখন পর্যন্ত পৌছায়নি কোন রেল যোগাযোগ।এটা অনেকটা অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতে রয়েছে রেল যোগাযোগ বাবস্থা কেবল বরিশাল ছাড়া।এই বিভাগে রেল না যাবার অন্যতম কারন ছিল পদ্মা নদীর মত বড় নদী হয়ে জেতে হয় বরিশাল বিভাগের শহরগুলোতে।
যে নদী পার হয়ে রেল যোগাযোগ যুক্ত করা ছিল অবিশ্বাস্য।তবে এবার সেই অবিশ্বাস্য সেই বিষয়ের অবসান ঘটেছে কেবল বাংলাদেশ সরকারের পদ্মা সেতুর মত বর মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য।পদ্মা সেতুকে বানানো হয়েছে রেল চলাচলের উপযোগী করে।তাই এবার আলোর মুখ দেখেছে বরিশালবাসী ট্রেনে চড়ে বাড়ি যাবার।দীর্ঘ দিন সমীক্ষা আর আমলাতান্ত্রিকতা কাটিয়ে এবার ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে গোপালগঞ্জ হয়ে রেল বরিশালের উপর হয়ে যাচ্ছে ঠিক পায়রা বন্দর পর্যন্ত ।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে গোপালগঞ্জ-মাদারীপুর ও দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, ঝালকাঠি, বরগুনা এবং পটুয়াখালী পর্যন্ত ২৪৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করবে রেলওয়ে।ইতিমধ্যে প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করেছে সংস্থাটি। ২০২২ সালে কাজ শুরু করে ২০৩০ সালে শেষ করার আশা জানিয়েছেন ইনিউজ৭১ কে রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন।

ফরিদপুর-পটুয়াখালী রেললাইন সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রকল্প পরিচালক মামুনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাই এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। পুরো নকশা শেষ হয়েছে এবং টেন্ডার ডকুমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্প অনুযায়ী পায়রা বন্দরে রেলওয়ে অর্থনৈতিক জোন, বরিশালে রেলওয়ে মাল্টিমোডাল হাবসহ ১৯টি বড় স্টেশন নির্মাণ করা হবে। ১৭ কিলোমিটার নিচু জমিতে হবে উড়াল রেললাইন। কীর্তনখোলা, পায়রাসহ বড় নদীগুলোতে নির্মাণ করা হবে ৪৬টি বড় রেলসেতু। থাকবে ৪৪০টি বক্স কালভার্ট, কোনো লেভেল ক্রসিং ছাড়া ট্রেন চলবে কালভার্টের ভেতর দিয়ে।
২০২২ সালে কাজ শুরুর লক্ষ্য ধরে ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ হবে কাজ। ৪৪ হাজার কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ের এ প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ উন্নয়ন সহযোগী অনেক দেশ অর্থায়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে বলে জানান রেলমন্ত্রী।
রেলমন্ত্রী আরো বলেন যে , এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক লাভবান হবে এবং বিপুল ধরনের পরিবর্তন হবে। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের আমরা স্বপ্ন দেখছি সেটি বাস্তবায়নের এক ধাপ নয়, দুই ধাপ এগিয়ে যাবে। চলতি বছরের জুলাই মাসেই প্রকল্পটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। এবার ২০৩০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা কেবল রেলে চড়ে বাড়ি যাবার ।