
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২১, ২৩:১৯

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণের হার। এতে স্হানীয়রা স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে আতংকের মধ্যে রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে গত তিন দিনে স্হানীয় ছয় জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে ভারতে আটকা পড়া দেশে ফেরত একজন যাত্রীর দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
গত বছর করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিভাগের নানামুখী পদক্ষেপ ও পৌরসভার নো মাস্ক নো সেল, নো মাস্ক নো এন্ট্রি কার্যক্রমের ফলে এই জেলার হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা করোনা সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে কম ছিল। পরবর্তীতে সাধারন মানুষের অসচেতনতা ও প্রশাসনের অভিযান ঢিলে ঢালা হওয়ায় সংক্রমণ বাড়তে থাকে। তবে এখন পর্যন্ত এই উপজেলা করোনা সংক্রমণের দিক থেকে জেলায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
স্হানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সুত্র মতে, উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত ৯৬ জন, এর মধ্যে একজন মারা গেছেন। অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন ৮৯ জন, বর্তমানে ছয় জন রয়েছেন চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে গত তিন দিনে স্হানীয় ছয় জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।
অপর দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ১৯ মে থেকে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশি যাত্রী পরাপার শুরু হয়েছে। করোনা নেগেটিভ সনদ ও এনওসি নিয়ে মঙ্গলবার (২৫ মে) পর্যন্ত ১০৩ জন যাত্রী দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে একজনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। তাকে দিনাজপুর মেডিক্যালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তবে তিনি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত কিনা তা জানা যায়নি। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী তমজিদ হোসেন ও বাদশা মিয়া বলেন, হিলি একটি সীমান্তবর্তী এলাকা হলেও গতবছর এই অঞ্চলে করোনায় আক্রান্তের হার ছিল খুবই কম। এবার করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর থেকেই সংক্রমণের হার বাড়তে শুরু করেছে। আমদানি-রফতানি শুরু ও সম্প্রতি ভারত থেকে আটকা পড়া যাত্রী আসা শুরু হলে সংক্রমণের হার বাড়তে থাকে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা বলছেন, ভারত থেকে যেসব পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে, তাদের চালক ও সহকারীদের কোনও করোনা টেস্ট করা হচ্ছে না। এতে করে তাদের মাধ্যেম করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ওপর মানুষজনের মাঝে বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহারসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানার হার যেমন কমেছে, তেমনি সচেতনতা বাড়াতে প্রশাসনের আগের মতো কোনও পদক্ষেপ নজরে আসছে না। অতিদ্রুত ভারত থেকে দেশে ফেরা ব্যক্তিদের মতো, ভারতীয় ট্রাক চালকদের করোনা পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
হাকিমপুর (হিলি) পৌর মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক দেশের যে কয়টি স্থলবন্দর এলাকা রয়েছে, সেগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, আমরাও সরকারি সিদ্ধান্তের সাথে একমত। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় যে সব পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও হেলপাররা আসছেন, তাদের কোনও করোনা নেগেটিভ সনদ বা টেস্ট করার কোনও ব্যবস্থা নেই। এতে আমরা করোনা সংক্রমণ নিয়ে শঙ্কিত। সংক্রমণের হার বাড়ছে, তাতে করে আমরা আতঙ্কিত ও শঙ্কিত। যথাযথ কর্তৃপক্ষ যেন ভারতে আটকে থাকা যাত্রীদের মতো ভারতীয় ট্রাক চালকদেরও করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেয়।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ আল হাসান বলেন, ভারত থেকে দেশে ফেরা প্রতিটি যাত্রীর র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের ব্যবস্থা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে আরটিপিসিআর টেস্টের জন্য দিনাজপুর মেডিক্যালে পাঠানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই পথ দিয়ে আসা যাত্রীদের একজনের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। তবে তিনি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

এরপরেও গত কয়েকদিন ধরে হিলিতে করোনার রোগী বেড়ে যাচ্ছে। গত সাতদিনে ছয় জনের দেহে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে, আরও শনাক্ত হতে পারে। তাই আমাদের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা, যেন সকলেই মাস্ক ব্যবহার করে এবং উপসর্গ দেখামাত্র যেন চিকিৎসকের সহায়তা নেন।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, বন্দর দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দু’দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি চালকের তাপমাত্রা পরিমাপ করে, মাস্ক পরা নিশ্চিত করে, জীবাণুমুক্ত করে তারপরেই ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।
একইসঙ্গে ভারত থেকে দেশে ফেরা যাত্রীদের অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে করোনা পরীক্ষা করাসহ তাদেরকে ১৪দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে। তবে ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকচালকরা যেন করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে দেশে প্রবেশ করেন সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।