প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২১, ২১:৮
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা বেগম এখানে বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছেন। তিনি নিজেই বিএনপি রাজনীতি সমর্থন করেন। বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত আসন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩১২-এর সংসদ সদস্য ও সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম আহবায়ক উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম ওরফে শিউলি আজাদ এমপি।
রোববার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সংরক্ষিত আসন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩১২-এর সংসদ সদস্য ও সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম আহবায়ক উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম ওরফে শিউলি আজাদ, সরাইল কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা বেগমের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনেন।
তিনি আরো বলেন, সরাইলে দায়িত্ব পাবার পর এই কর্মকর্তা নিজে লাভবান হয়ে বিএনপির লোকদের সুবিধা দিয়ে যাচ্ছেন। আর এতে সুবিধা বাগিয়ে নিয়ে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে স্থানীয় কিছু নামধারী নেতা। মূলত আওয়ামী লীগের এই নামধারী নেতারা বহু আগেই আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত।
এসময়ে আওয়ামী লীগের এই নারী সাংসদ আরও বলেন, গত ৮ এপ্রিল সরকারের ৭০ শতাংশের ভর্তুকিতে সরাইল উপজেলার ১০ জন কৃষকের মাঝে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে। সেই মেশিন বিতরণে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেন কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা বেগম।
এলাকার প্রকৃত কৃষকের নাম ব্যবহার করে এই কর্মকর্তা স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত রাজনীতির সঙ্গে জড়িত লোকদের হাতে এই মেশিন গুলো তুলে দিয়েছেন অবৈধভাবে নিজে লাভবান হয়ে। বিতরণ অনুষ্ঠানে নিয়ম থাকলেও আওয়ামী লীগের এমপিকে দাওয়াত করেননি তিনি। এমনকি এই এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের এমপি হিসেবে এসব মেশিন প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে বন্টনে আমার কোনো পরামর্শ নেননি এই কৃষি কর্মকর্তা। ফলে তিনি সরাইলে বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে চলেছেন কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা বেগম।
এদিকে সরাইল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন (আধুনিক ধান কাটার যন্ত্র) কৃষকের সময় ও অর্থ দুই-ই বাঁচায়। এই মেশিনে দ্রুত সময়ে ধান কেটে জমিতেই ধান মাড়াই করা হয়। ডিজেলে চালিত এই মেশিনে ঘন্টায় ১০০ শতক বা ১ হেক্টর জমির ধান কাটা যায়। কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনের একেকটির মূল্য ৩১ লাখ টাকা।
এলাকার কৃষকদের সুবিধার্থে আওয়ামী লীগ সরকার ৭০ ভাগ ভর্তুকি দিয়ে কৃষকদের এই মেশিন দিয়েছে। এতে প্রতিটি মেশিনে সরকার ভর্তুকি দিয়েছে ১৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বাকি টাকা দিয়েছেন সুফল ভোগী কৃষক। সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নে ৪টি, নোয়াগাঁও ইউনিয়নে ৪টি ও কালিকচ্ছ ইউনিয়নে ২টি মেশিন দেয়া হয় গত ৮এপ্রিল আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রোববার বিকেলে সরাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মর্জিনা বেগম বলেন, আমি সরকারের সকল নিয়মনীতি অনুসরণ করেই এখানে প্রকৃত সুফল ভোগীদের মাঝে সেদিন ১০টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন বিতরণ করেছি। তিনি আরও বলেন, সেদিন বিতরণ অনুষ্ঠানে উনাকে (নারী এমপি শিউলি আজাদ) দাওয়াত করা আমার উচিত ছিল; কিন্তু আমি উনাকে দাওয়াত করিনি। এটা আমার ভুল হয়েছিল।
কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা বেগম বলেন, আমি এখানে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আছি; এটা আমার মূল পদবি নয়। এক্ষেত্রে হয়তো নিয়মকানুন জানতে সেদিন আমার অনেককিছুই বুঝার ভুল হয়েছিল। আমি বুঝে উঠতে পারিনি। ভুল হয়েছে আমার।
জানতে চাইলে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল হক মৃদুল বলেন, সবকিছু নীতিমালায় দেয়া থাকে না; এর বাইরেও কিছু করতে হয়। সেদিনের অনুষ্ঠানে এমপি শিউলি আজাদ মহোদয়কে দাওয়াত দেয়া উচিত ছিল। যেহেতু কৃষি অফিসার এখানে নতুন, তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেননি। আমরা এমপি স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি; ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠানে উনাকে অবশ্যই দাওয়াত করবো আমরা।
ইউএনও আরও বলেন, এখনে বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে কেউ; এমন বিষয় আমার জানা নেই। ইউএনও বলেন, অনেকে তো অনেক কথাই বলে; কেউ যদি এমন অভিযোগ লিখিত আকারে দেন, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই আমরা খতিয়ে দেখবো।
#ইনিউজ৭১/জিয়া/২০২১