প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২১, ২২:৮
ইতিহাস একাডেমির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন সভাপতি প্রফেসর ড. কে এম মোহসীন স্মরণে ইতিহাস একাডেমির উদ্যেগে একটি অনলাইন শোকসভার আয়োজন করা হয়।
উক্ত শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নগরবিদ এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রফেসর নজরুল ইসলাম। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ,বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. শরীফ উদ্দিন আহমেদ, সভাপতি, ইতিহাস একাডেমি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রফেসর ড. কে এম মোহসীনের জন্ম ও কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করা হয়। অধ্যাপক মোহসীনের জন্ম ২৭ মে ১৯৩৮ সালে রাজবাড়ী জেলায় এবং মৃত্যু ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ঢাকার উত্তরাস্থ এক হাসপাতালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ১৯৫৯ সালে বি এ ডিগ্রি এবং ১৯৬০ সালে এম এ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি তার কর্মজীবনের অধিকাংশ সময়ই কাটিয়েছেন দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি সর্বশেষ কর্মস্থল ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের অনেক শিক্ষাবিদ, গবেষক, ইতিহাসবিদ কে এম মোহসীনের সুযোগ্য ছাত্র, তার ভক্ত, গুণগ্রাহী সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে এই গুণী পুরুষের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন এ কে এম শাহনাওয়াজ (অধ্যাপক প্রত্নতত্ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও সহ-সভাপতি ইতিহাস একাডেমি), কাজী সুফিউর রহমান (অধ্যাপক ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়), মুহাম্মদ সাখাওয়াত হুসেইন (অধ্যাপক ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), বিশিষ্ট প্রত্নতাত্তি্বক ড. খন্দকার আলমগীর (কার্যবির্নাহী সদস্য, ইহিতাস একাডেমি),
মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান (অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. রঞ্জন চক্রবর্তী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন অধ্যাপক বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ আবদুল মমিন চৌধুরী, ড. ইফতেখান ইকবাল (সহযোগী অধ্যাপক, ব্রুনাই বিশ্ববিদ্যালয়) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল (সভাপতি জন-ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র)। প্রফেসর রঞ্জন চক্রবর্তী ( উপাচার্য বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় ) তার বক্তব্যে প্রফেসর মহসীনের সাথে তার ব্যক্তিগত পরিচয় এবং মুর্শিদাবাদের ওপর তাঁর গ্রন্থ এখনো অদ্বিতীয় বলে উল্লেখ করেন।
এছাড়া প্রফেসর মোহসীনের একমাত্র পুত্র সন্তান শামীম মোহসীনও তার বাবার স্মৃতিচারণ করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে ড. মোহসীনের কর্মবহুল জীবন ও কীর্তিকে অমর করে রাখার জন্য ইতিহাস একাডেমি কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কর্ম পরিকল্পনা বর্ণনা করেন ইতিহাস একাডেমির সহ সম্পাদক ড. মো. শাহিনুর রশীদ। এসব পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে স্মারকগ্রন্থ, গবেষণা বৃত্তি, কে এম মোহসীন স্বর্ণপদক প্রবর্তন ও স্মারক বক্তৃতা।
সভার সভাপতি প্রফেসর ড. শরীফউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন প্রফেসর মোহসীনের অস্তিত্ব তিনি ইতিহাস একাডেমির সকল কর্মকান্ড অনুভব করেন। তিনি আছেন, তিনি থাকবেন এবং ইতিহাস একাডেমি তাঁর বিভিন্ন পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে ড. মোহসীনকে চির অমর করে রাখবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মিলি রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য, ইতিহাস একাডেমি।