প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২১, ১৪:২৯
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ৬৩ বছরের পুরাতন মসজিদ ভাঙ্গার অভিযোগ মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে। উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের সমসাবাদ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
এদিকে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারীর দাবী করছেন মসজিদটির সম্প্রসারণের করার জন্য ভাঙ্গা হয়েছে। মসজিদের মুসল্লীরা বলছেন,পারিবারিক কলহ ও পূর্ব শত্রুতার কারনে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সেক্রটারী একক সিন্ধান্তে এটি করছেন।
মসজিদের মুলভবন ভেঙ্গে বাদ দিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে চরম অন্তোষ বিরাজ করছে। এত করে ঐ মসজিদের মুসল্লীদের মধ্যে বড় ধরণের সংঘর্ষের ঘটতে পারে।
অভিযোগে সূত্রে জানা যায়,ভারত থেকে উঠে এসে অত্র এলাকার হিন্দু লোকজনের সাথে জায়গা বদল করে আনুমানিক ১৯৫৭ সালে সমসাবাদ পূর্ব মধ্যপাড়ার সামছুল হক মুন্সির মৌখিক দানকৃত স্থানে কিছু লোকজন নামাজ আদায় করতেন। এভাবে দীর্ঘদিন চলার পর মসজিদ ঘরটির বৈধ্যতার জন্য দাতা সামছুল হক মুন্সী সমসাবাদ মৌজায় সাবেক ৯৬৩ দাগে ১৯৮২ সালে
১.৫ শতক জমি মসজিদের নামে দান করেন। উক্ত দানমূলে পরবর্তীতে সমসাবাদ মৌজায় ৬ নং খতিয়ানে ১৫২৪ দাগে মসজিদের নামে ২ শতক জমি আর এস রেকর্ড হয়। কিন্তুু আর এস রেকর্ডের নকশায় মসজিদ ভবনটি যেখানে অবস্থিত সেখানে নকশা না করে মসজিদ ঘরটির পুর্ব পার্শ্বে নকশা করা হয়।
আবার ভুলবশত নকশায় ২ শতক জমির জায়গায় প্রায় ৪ শতকের ম্যাপ হওয়ায় বাকি ২ শতক ১৫২৩ দাগে আর এস রেকর্ডের আবুল কাশেমের নিকট হতে ক্রয়সূত্রে মালিক মৃত কুরছিয়া বেগমের ছেলে রুকুনুজ্জামানের দখলকৃত জমির মধ্যে ঢুকে যায়। কিন্তু ১৫২৪ দাগে মসজিদের নামে রেকর্ডকৃত জমি ২ শতক মসজিদ সংলগ্ন মসজিদের দখলে আছে ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের মূল ভবনের স্থানটি আছে এক স্থানে আর নকশায় অন্তর্ভূক্ত হয় ভবনের পূর্ব পাশে। সেক্ষেত্রে মসজিদ ভবনটি স্থানান্তর করার কোন বিধান না থাকায় দাতা সামছুল হক তার বাড়ির সামনে সাইড উল্লেখ করে ১৫২৩ তার নামে আর এস খতিয়ানে ১৭ শতকের মধ্য হতে
এবং দলিলের চৌহদ্দি উল্লেখ করে বর্তমানে যেখানে মসজিদের মূল ভবনটি অবস্থান করছে সেখানে সমসাবাদ মৌজায় ২০০৭ সালে ১৫২৩ দাগে ৪.৫০ শতক জমি দান করেন। এর ফলে মসজিদ তৈরি হয় ১৯৫৭ সালে এবং মসজিদ যেখানে ছিল বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছে। সেটি মসজিদ কমিটির
সভাপতি,সেক্রেটারী তোয়াক্কা না করে জনৈক কুরছিয়া বেগমের ২১ বছর ধরে দখলকৃত সম্পত্তিতে মসজিদ সম্প্রসারণের অজুহাত দেখিয়ে তার লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও বাঁশের বেড়া জোর পূর্বক অপসারণ করেন। এরপর সভাপতি ও সেক্রটারী এলাকায় প্রচার করেন,কুরছিয়া বেগমের জমি মসজিদের অংশে ঢুকে যাওয়ায় সেই জমি তার ছেলেরা দাবী করায় মসজিদের মূল ভবন ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারী অন্য সদস্যদের মাঝে কোনরুপ আলোচনা ও রেজুলেশন ছাড়াই নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ চারিতার্থ করার হীন মানসিকতার প্রতিশোধ পরায়ন
হয়ে একক সিদ্ধান্তে মসজিদের মূল অংশ ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে বলে মসজিদের মুসল্লীরা অভিযোগ করেন। মসজিদের জমি সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি সমাধানের প্রস্তাব দিলেও সভাপতি ও সেক্রটারী তা আমলে নিচ্ছে না বলে দাতা পরিবারের অভিযোগ।
এবিষয়ে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মসজিদ ভবনটি ভাঙ্গতে চাইনি, কিন্তুু তারা ভাঙ্গতে বাধ্য করেছে। তবে মসজিদ ভাঙ্গার বিষয়ে কমিটির রেজুলেশন আছে কিনা তা দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি।
সভাপতি আইনুল হক বলেন,আমরা মসজিদের জায়গায় নতুন ভবন তৈরীর জন্য ভিত্তি স্থাপন করার সময় তারা বাধা দেয়। ফলে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন,ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারনে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারী মসজিদটি ভেঙ্গেছে। মসজিদটি ভাঙ্গার কোন প্রয়োজন ছিল না।
এদিকে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আল আজীজিয়া বাংলাহিলি হাকিমপুর মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগের অভিমত কোন স্থানে মালিকের অনুমতিক্রমে একবার মসজিদ নির্মাণ হয়ে কেয়ামত পর্যন্ত তা মসজিদ হিসাবেই বহাল থাকবে। ঐ স্থানে মসজিদ থাক বা ঘর থাক শরিয়তের দৃষ্টিতে তা মসজিদ হিসাবেই গণ্য হবে। ওই স্থান রদবদল বা কাউকে হিবাদান করা বা বিক্রি করা কোন অবস্থাতেই জায়েজ নেই বলে অভিমত প্রকাশ করেন।
৬৩ বছরের পুরাতন মসজিদ ভবনটির মূল অংশ ভেঙ্গে অন্যত্র স্থানান্তর ও সম্প্রসারণ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি তৈরী হওয়াই দাতা পরিবারের সদস্যদের মসজিদের মূল অংশটি অক্ষুন্ন রেখে মসজিদটি সম্প্রসারণের দাবী জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছেন।
এবিষয়ে পাঁচবিবি থানার ওসি (তদন্ত) সাইদুর রহমান বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে একটি আপস মিমাংসা করা হয়েছে। তারপরও কেন ঝামেলা হচ্ছে তা তার জানা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।