প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০:২২
অন্য ফসলের চেয়ে কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এবং বাজারে চাহিদাও দাম ভালো থাকায় নাটোরের লালপুরে আগ্রহ বেড়েছে কালোজিরা চাষে। অন্য ফসল চাষ করে বাজারে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে উপজেলার কৃষকরা লাগাতার লুকসান হওয়ায় এবার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে রেকর্ড পরিমান জমিতে কলোজিরার চাষ করেছে এই অঞ্চলের কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, লালপুরের আবহাওয়া কালোজিরা চাষের উপযোগী। এই উপজেলায় ১১৫ হেক্টর জমিতে কালোজিরা চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চলতি মৌসুমে চাষ হয়েছে ২১০ হেক্টর জমিতে যা লক্ষমাত্রার দ্বিগুন। এই সকল জমি থেকে ২১০ মেক্টিকটন কালোজিরা উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা করেছে কৃষি বিভাগ।’
সরোজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কালোজিরার ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে কালোজিরার সবুজ গাছে ছেয়ে গেছে। কিছু কিছু জমিতে কালোজিরার ফুল আসতে শুরু করেছে। আর কিছু দিন পরেই কালোজিরা ধরতে শুরু করবে। পোকার হাত থেকে কালোজিরা গাছকে বাঁচাতে ক্ষেত পরিচর্যা করছেন কৃষকরা।
এসময় কথা হয় কালোজিরা চাষী রেজাউল করিমের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘অন্য ফসল করে বাজারে ঠিক মতো দাম না পাওয়া গত কয়েক বছর থেকে লুকসান গুনতে হচ্ছে। এছাড়াও কালোজিরা চাষে অন্য আবাদের তুলনায় খরচ কম এবং বাজারেও এই ফসলের চাহিদাও দাম ভালো থাকায় তিনি এবার এক বিঘা জমিতে কালোজিরার চাষ করেছেন। ৮-১০ হাজার টাকা খরচ করলেই কলোজিরা চাষ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তার জমির কালোজিরার গাছ ভালো আছে আর কিছু দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসবে। তিনি আশা করছেন শেষ পর্যন্ত কোন প্রকার প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে কালোজিরার ফলন ভালো হবে।’
মুনছুর রহমান নামের এক চাষী বলেন,‘দাম ভালো হওয়ায় এই প্রথম তিনি কালোজিরার চাষ করেছেন। ঠিক মতো পরিচর্যা করায় কালোজিরার গাছ ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবার কালোজিরার বাম্পার ফলন হবে বালে জানান তিনি।’
লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান,‘বাজারে দাম ও চাহিদা ভালো থাকায় এবার লালপুর উপজেলায় রেকর্ড পরিমান জমিতে কালোজিরার চাষ হয়েছে। কালোজিরা চাষে কৃষকদের উদ্বুগ্ধ করতে কাজ করছে কৃষি অফিস। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবার কালোজিরার বাম্পার ফলন হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।’