
প্রকাশ: ৭ জানুয়ারি ২০২৫, ১৭:৫৫

সিলেট অঞ্চলের প্রভাবশালী বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী গুম ও হত্যার বিষয়ে তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। র্যাবের তৎকালীন কর্মকর্তা এবং বর্তমানে সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে একটি কিলিং স্কোয়াড ইলিয়াস আলীকে হত্যা করে এবং তার মরদেহ যমুনা নদীতে ফেলে দেয়। এ ঘটনার নির্দেশদাতা হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে র্যাব সদস্য সার্জেন্ট তাহেরুল ইসলাম এই ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলীকে শেরাটন হোটেল থেকে অনুসরণ করে বনানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুলের সামনে থেকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের সময় ইলিয়াস আলীর ড্রাইভার আনসারকেও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
তাহেরুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, মহাখালী জলখাবার হোটেলের কাছে গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে থামানো হয় এবং অপহরণের পর ইলিয়াস আলীকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে হত্যা করে তার মরদেহ যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তাহেরুল আরও জানান, অপারেশন শেষে জিয়াউল আহসান তাকে দায়িত্ব শেষ বলে জানিয়ে দেন।


তদন্তে উঠে এসেছে, ইলিয়াস আলীর গুম এবং হত্যার পেছনে তৎকালীন সরকার এবং সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা ছিল। গুম তদন্ত কমিশন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশেই এ অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। এ সময় ডিজিএফআই এবং র্যাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই অপারেশনে সম্পৃক্ত ছিলেন।
এছাড়া ইলিয়াস আলীর গুমের পর শেখ হাসিনা তার স্ত্রী ও কন্যাকে ডেকে নাটকীয়ভাবে জানান যে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করা হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে তিনি ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
গুম তদন্ত কমিশন জানায়, এ ঘটনায় জড়িত সেনাবাহিনীর দুই সদস্য, ওয়ারেন্ট অফিসার জিয়া ও ইমরুলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের সেনাবাহিনীতে ক্লোজড এবং অন্তরীণ রাখা হয়েছে।
ইলিয়াস আলীর হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে ভুক্তভোগী পরিবার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তদন্তে উঠে আসা নতুন তথ্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।