শেষ পরীক্ষা দিতে পারলেন না শান্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
মইনুল হক মৃধা, জেলা প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার ২৫শে নভেম্বর ২০২১ ১২:১৩ অপরাহ্ন
শেষ পরীক্ষা দিতে পারলেন না শান্তা

এসএসসি পরীক্ষার্থী শান্তা খাতুন (১৬) "স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা করে পরিবারের বোঝা না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবে। কিন্তু বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে অসময়ে বসতে হয় বিয়ের পিরিতে। প্রবল ইচ্ছা শক্তির কারণে বিয়ের পরেও পড়ালেখা করে অংশ গ্রহন করেছিলেন এবারের (২০২১) সালের এসএসসির পরিক্ষায়।


কিন্তু বিধিবাম শান্তা এ বছর গোয়ালন্দ আইডিয়াল হাইস্কুল হতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথম দুটি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারলেও গত সোমবার বাচ্চা জন্ম নেয়ায় মঙ্গলবারের (২৪ নভেম্বর) শেষ পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারেননি তিনি।শান্তার বাবার নাম শহিদুল ইসলাম। পেশায় একজন হোমিও চিকিৎসক। বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের নুরু মন্ডলের পাড়া গ্রামে।


বুধবার দুপুরে সরেজমিন আলাপকালে শান্তার বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন,২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ৯ম শ্রেনীতে পড়া অবস্থায় শান্তাকে বিয়ে দেই। কিছু বখাটে ছেলের উৎপাত হতে রক্ষা পেতে এবং আমার মৃত্যু পথযাত্রী মায়ের ইচ্ছে পূরন করতে অসময়ে আমরা তাকে এ বিয়ে দেই। বিয়ের পরও সে প্রচন্ড ইচ্ছে শক্তির জোরে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিল। এর মধ্যেই ওর গর্ভে সন্তান আসে। অনেক কষ্ট করে সে গত ১৫ ও ২১ নভেম্বরের ইতিহাস ও ভূগোল পরীক্ষায় অংশ নেয়।এরপর ২২ নভেম্বর সোমবার বিকেলে তার একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এতে প্রচন্ড শারিরীক দূর্বলতার কারনে ২৩ নভেম্বর মঙ্গলবার শেষের  'পৌরনীতি ও নাগরিকতা' বিষয়ে অংশ নিতে পারেনি। 


এসময় আলাপকালে শান্তা জানান, আমার খুব ইচ্ছে ছিল পড়ালেখা করার। এসএসসি পাশ করে কলেজে পড়ার। কিন্তু তা আর হলো না। খুব ইচ্ছে ছিল শেষ পরীক্ষাতেও অংশ নেই। কিন্তু শারিরীক দূর্বলতা ও পরিবারের  লোকজনের বাঁধায় তা আর হলো না। তবে চেষ্টা করবো আগামীবার আবারো পরীক্ষায় অংশ নেয়ার। কিন্তু  পারব কিনা জানি না। আপাতত আমার মেয়েই আমার সব। ওকে ঘিরেই আমার সকল স্বপ্ন ও আশা।


গোয়ালন্দ উপজেলায় এসএসসির কেন্দ্র সচিব মুহম্মদ সহিদুল ইসলাম জানান, এ বছর গোয়ালন্দ উপজেলা হতে ১হাজার ১'শ ৪৫জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ফরম পূরন করার পরও ১৮জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। আমার ধারনা এদের প্রায় সবাই শান্তার মতো বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক বিষয়।


গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কক্ষ  পরিদর্শন করতে গিয়ে জানতে পারি বাচ্চা জন্ম নেয়ায় শান্তা নামের ওই পরীক্ষার্থী শেষ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে নি।বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা চেষ্টা করছি বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে।কিন্তু নানা কারনে তা পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে সবাইকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং সচেতন হতে হবে। 



তাংঃ ২৫/১১/২০২১ইং


2 Attachments