
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২২:১০

আজ, রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। এই কমিটির গঠন ও আত্মপ্রকাশের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে একটি সাম্যবাদী ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিলো সমাজের প্রতিটি স্তরে বিদ্যমান বৈষম্য ও অসাম্য দূর করে একটি সমতাভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্যে ছাত্র ও জনতার অংশগ্রহণে একাধিক আন্দোলন ও প্রতিবাদ সংঘটিত হয়েছে। যার ফলে বর্তমান ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনার পতন ঘটেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে দেশের সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ ও সহস্রাধিক শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনার পতন ঘটেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের এক দফার দ্বিতীয় ধাপ তথা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ঘটিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করেছেন।
জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই কমিটি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের সামগ্রিক কল্যাণে কাজ করবে। এতে দেশের জনগণের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় একটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।

কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
আন্দোলনের নেতারা মনে করছেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ তাদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে নতুন করে সচেতন হয়েছে। এই কমিটির মাধ্যমে সেই সচেতনতা আরও বদ্ধমূল হবে এবং একটি গণতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী সমাজ গড়ার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিতব্য এই আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সূচনা হবে যা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
জাতীয় নাগরিক কমিটির আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আরও একটি মাইলফলক অর্জন করতে যাচ্ছে। এই কমিটির মাধ্যমে দেশের জনগণ তাদের অধিকার ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ আশা করছেন, এই কমিটির গঠনের মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি স্তরে একটি সমতাভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।