প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৩, ৩:৪৪
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন আর জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদিআরব, কাতার কিংবা চীনে গিয়ে কোনো লাভ হবে না। সরকারকে টেনে নামানোর সময় চলে এসেছে। টেনে না নামালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়বে না। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শ্যামলী ক্লাব মাঠে এক জনসমাবেশে এ কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার, সরকার পদত্যাগসহ ১০ দফা আদায়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে এই সমাবেশ হয়।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন সাংগঠনিক ২৮ জেলায় সমাবেশ করেছে দলটি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপির সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি শুরু হলো। আজ ঢাকা মহানগর দক্ষিণসহ ২১ জেলায় সমাবেশ হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের সময় শেষ, এটাই বাস্তবতা। এখনও সময় আছে জনগণের চোখের ভাষা পড়ুন, জনগণকে মুক্তি দিন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘গণভবন থেকে বের হন, পাইক-পেয়াদা, মোরকেনদাজ, এসএসএফ, সোয়াত এসব বাদ দিয়ে মানুষের সামনে এসে দাঁড়ান। দেখুন তারা কি বলে? তাদের দাবি মেনে নিন।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন চাইলেও পুরো নির্বাচন বাতিল করতে পারবে না। সরকার এ আইন করতে যাচ্ছে। তাহলে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা কতটুকু থাকল? এসব করে সরকার দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন অন্যায়ভাবে আমাদের বিরুদ্ধে কিছু করবেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলতে চাই, এই সরকার দেশে-বিদেশে সমর্থন হারিয়েছে। দয়া করে এমন অবস্থা তৈরি করবেন না সেখানে আপনারাও চিহ্নিত হয়ে যাবেন।’
জনসমাবেশে নেতাকর্মী-সমর্থকদের আর কিছুদিন কষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, শেষ সময়ে টিকে থাকার জন্য মরণ কামড় দিচ্ছে। তাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঝড়ের বেগে জনতার উত্তাল গণআন্দোলন তৈরি করে সরকারকে পরাজিত করতে হবে।
আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা বলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার না-কি কবরে চলে গেছে, বিলীন হয়ে গেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আপনারা যখন চেয়েছিলেন তখন এটা ভালো ছিল। ওই সময় তো শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনোটাই মানব না। আজকে আমাদের কথাও পরিষ্কার, মানুষ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য, নিজের ভোট নিজে দেবার জন্য এবং ভোটের ফলাফল ঘরে আনার জন্য তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া কোনো নির্বাচন মানবে না।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সংঘাত চাই না। মুখোমুখি অবস্থান চাই না। শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিয়মাতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতার পরিবর্তন চাই। কারণ, নির্বাচনই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র উপায়।’
মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্ব ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাকের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, ফজলুল হক মিলন, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, রকিবুল ইসলাম বকুল, আমিনুল হক, তাবিথ আউয়াল, শফিকুল ইসলাম মিল্টন, ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ।