
প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২২, ২:১১

নির্বাচন কমিশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বেশ কিছু নাম সর্বস্ব দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। এসব দলের নাম ও উদ্দেশ্য এরিমধ্য আলোচনার খোরাক হয়েছে।
নেতাকর্মী কিংবা নিজস্ব কোনো কার্যালয় নেই- এমন অনেক রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে।
কোনো কোনো দল কার্যালয় হিসেবে দেখিয়েছে কর্মক্ষেত্র, বাসাবাড়ি, দোকানঘর, চেম্বার কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কোনোটির আবার কার্যালয়ের ঠিকানা গায়েবি।
এমন একটি দলের অফিসের ঠিকানায় গিয়ে দেখা গেছে আদম ব্যবসার অফিস। এদের কেউ কেউ আবার একবার নিবন্ধনে ব্যর্থ হয়ে নতুন আবেদন করেছেন ভিন্ন নামে।
রাজধানীর হাতিরপুলে একটি ভবনে এই প্রতিবেদক গিয়ে দেখতে পেলেন এক বহুল আলোচিত রাজনৈতিক দলের অফিস সেখানেই।
অফিসের বাইরে বাংলাদেশ জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির স্টিকার লাগানো। কিন্তু ভেতরে ঢুকতেই ভিন্ন নাম। বড় বড় ব্যানারে লিখা বাংলাদেশ কর্মসংস্থান আন্দোলন।
এই নামেই ২০১৭ সালে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন দলের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসাইন। পরে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় নিবন্ধন পায়নি দলটি।
তাই এবার আবেদন করা হয়েছে নাম বদলে। দেলোয়ার হোসাইনের আশাবাদ, এবার সব শর্ত পূরণ করেই আবেদ করা হয়েছে, তাই নিবন্ধন পেয়ে যাবে তার দল।
বিদেশ প্রত্যাগত প্রবাসী ও ননপ্রবাসী কল্যাণ পার্টির অফিস নয়াপল্টনের এই ভবনের দোতলায়। অফিসটি তালাবদ্ধ। গেটের পাশে দলটির নামের স্টিকার লাগানো।
তার ঠিক নিচেই মোবাইল ব্যাংকিং ও ইমোতে টাকা পাঠানোর বিজ্ঞাপন। যা পরিষ্কার করলেন ওই ভবনের কর্মরতরা।

কিন্তু মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও দলের সভাপতি আবু আহমেদ ভূঁইয়ার নাগাল পাওয়া গেলো না।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন- বিএনএম-এর অফিসের ঠিকানা ৫৫/১ পুরানা পল্টন। যদিও ওই ভবনের বাসিন্দারা জানেন না এমন কোন রাজনৈতিক দলের অফিসের কথা।
একই এলাকায় বায়তুর আবেদ নামের আরও একটি ভবনে ‘নতুন সমাজ’ নামে আরও একটি দলের কার্যালয় আছে। তবে তালাবদ্ধ।
রাজধানীর ২৭/৮ তোপখানা রোডে জনমত পার্টির কার্যালয় মূলত আইনজীবীর অফিস। দলের প্রধানের দাবি, অফিস না থাকলেও ৪৪টি জেলার ১০৯টি উপজেলায় কমিটি রয়েছে তার।
এবার নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য ৯৮টি দল আবেদন করেছে। যার মধ্যে ইত্যাদি পার্টি, বৈরাবরী পার্টি, নাকফুল বাংলাদেশ, ইনভায়েমেন্ট গ্রিন পার্টির মতো নাম যুক্ত হয়েছে।
তবে এমন নামসর্বস্ব দলে কোন কার্যক্রম না থাকলেও, প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে সরব হয়ে ওঠে। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব দলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যেরও কোনো ঠিক নেই।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তথ্য গোপন করে নিবন্ধন পাওয়ার সুযোগ নেই। যারা শর্ত পূরণ করবে, তারা নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
তথ্য যাচাইয়ে গঠিত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। এর পরই নিবন্ধনের প্রসঙ্গ সামনে আসবে।
সূত্র: একাত্তর টেলিভিশন