
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২০, ৪:৪৭

যেকোনো স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে দেশের স্বার্থে, দেশের জনগণের স্বার্থে রাজনীতি থাকবে, রাজনৈতিক দল থাকবে, রাজনীতির চর্চা থাকবে, তার অনুশীলন থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এই স্বাভাবিক বিষয়টা অনেকটা অস্বাভাবিক হয়ে যায় তখনই, যখন রাজনৈতিক চরিত্র স্খলনজনিত ক্রিয়াকলাপ পরিলক্ষিত হয়। অপরদিকে স্বাধীন দেশে সংবাদ মাধ্যম থাকবে। সমাজে নানাবিধ অসংগতি এবং রাষ্ট্রের কল্যাণকর কর্মকাণ্ডের কথা সংবাদ মাধ্যমে লেখা হবে এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু অপসাংবাদিকতা যখন গ্রাস করে বসে তখন হুমকির মুখে পড়ে সংবাদ মাধ্যম। রাজনীতি আর সাংবাদিকতা বিষয়ে আজকে লিখতে হচ্ছে এ কারণেই যে, আজকাল হলুদ/অপ সাংবাদিকতা যেমন দেখা যায়, তেমনি রাজনৈতিক যোগ্যতা না থাকা ব্যক্তিদের রাজনীতিতে সক্রিয় দেখে বলতে হয় হলুদ/অপ রাজনীতি এদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। অপসাংবাদিকতা/হলুদ সাংবাদিকতা রুখতে যেমন একের পর এক আইন প্রণীত হচ্ছে, তেমনি অপ রাজনীতি/হলুদ রাজনীতি বন্ধেও আইনের প্রয়োজন হয়ে পড়ছে। কেননা রাজনীতিতে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ছে। আর ত্যাগী নেতাকর্মীরা হয়ে পড়ছে কোনঠাসা।
তবে নিত্য নতুন মাফিয়া প্রতারকদের সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য দায়ী কারা। এর উত্তর খুঁজতে গিরানায়ে দেখা যায় সাম্প্রতিক সময়ে যারা অনুপ্রবেশকারী ও প্রতারণার মাধ্যমে হয়ে উঠছে প্রভাবশালী ব্যাক্তি তাদের অধিকাংশই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ক্ষমতাবান হয়েছেন। সাংবাদিকতা হল বিভিন্ন ঘটনাবলী, বিষয়, ধারণা, ও মানুষ সম্পর্কিত প্রতিবেদন তৈরি ও পরিবেশন, যা উক্ত দিনের প্রধান সংবাদ এবং তা সমাজে প্রভাব বিস্তার করে। আর রাজনীতি হলো হল দলীয় বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থ ক্ষমতার সম্পর্কের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডের সমষ্টি।
পাশাপাশি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া নেতাদের শেল্টার দিচ্ছেন ওই সকল পত্রিকার মালিকগণ। যেমনটি খোঁজ মিলেছে করোনাকালীন প্রতারণার গডফাদার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সাহেদ করিমের বেলায়। তিনি তার ক্ষমতার ব্যাপ্তি আর অসৎ কর্মকাণ্ড ঢাকতে একটি পত্রিকার প্রকাশক হয়েছিলেন। একইভাবে হাল জমানায় রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীও বাড়ছে। এদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মূলত রাজনীতির ব্যানারে থাকলে (বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের) অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। আর এই সুবিধাই এক সময় সাধারণ মানুষের অসুবিধার কারণ হয়ে দাড়ায়। যেমনটি লক্ষ্য করা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ক্যাসিনো ও সর্বশেষ মহামারী করোনাকালীন অভিযানে।
যারা আসলে ভুইফোঁড় বা অনুপ্রবেশকারী হয়ে দলে ঢুকে দলের ব্যানার ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ তথা রাষ্ট্রের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে। করোনা’র ভুয়া রিপোর্টদানকারী সাহেদ আটক হওয়ার পর দেশের বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে।এতে বিভ্রান্ত হচ্ছে দেশের মানুষ। রাজনৈতিক দলদুটি শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যারা দলের দুর্দিনে রাজপথে লড়াই করেছেন তারা এখন অনুপ্রবেশকারীদের দাপটের কাছে অসহায়। অন্তত বিগত দুই দশকে বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দলে এ ঘটনা অহরহ।
অপরদিকে, আমাদের দেশে সব সাংবাদিক যে সাংবাদিকতা বিষয়ে অনার্স/মাস্টার্স করে সাংবাদিকতায় আসছেন তা কিন্তু নয়। বরং বলা যায় এসএসসি কিংবা নাইন-টেন পর্যন্ত পড়াশোনা করেই কোন না কোনভাবে সাংবাদিকতা পেশায় নাম লিখিয়েছেন। ফলশ্র“তিতে অনেক সংবাদ মাধ্যম ও সেখানে নিয়োজিত সাংবাদিকদের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনুরূপভাবে আমাদের দেশের সব রাজনৈতিক নেতা কিন্তু ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে উঠে আসেনি।

বরং বর্তমান সময়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ী, আমলা, সরকারের পদস্থ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ রাজনীতির সাথে যুক্ত হচ্ছেন। আর রাজনৈতিক দলগুলোও সাংবাদিকদের মতো কোন ধরণের যাচাই বাছাই না করেই তাদেরকে দলে ঠাঁই দিচ্ছেন। এমনকি কোন ধরণের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও দলের বড় ভাইদের হাত ধরে মিছিল মিটিংয়ে লোক জড়ো করেই নেতা বনে যাচ্ছেন কেউ কেউ। কেউবা আবার মোটা অংকের অর্থ ঢেলে বাগিয়ে নিচ্ছেন দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ। আর এ শ্রেনীর নেতারাই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে। যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোকে। ইমেজ সংকটে পড়তে হচ্ছে দলের নীতি নির্ধারকদের।