
প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১:৩৬

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভোটের দিন ৩০ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ওইদিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে ভোটের দিন পরিবর্তন করে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ নামে সংগঠনটি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বলছে, ‘সরকারি হিসাবে সরস্বতী পূজার দিন ২৯ জানুয়ারি। এটি অপরিবর্তিত থাকলে হিন্দু পরিষদের দাবি আমলে নেয়ার সুযোগ নেই।’
বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের দাবি, ৩০ জানুয়ারি ভোট। একই দিন অনুষ্ঠিত হবে শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা। তাই ইসিকে চিঠি দিয়ে তারা ভোটের দিন পরিবর্তনের দাবি জানায়। অবশ্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরস্বতী পূজা ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে হিন্দু পরিষদ বলছে, ‘সরকারি হিসাবে নয়, পঞ্জিকা অনুযায়ী তারা সরস্বতী পূজা ৩০ জানুয়ারি উদযাপন করবেন।’
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার অনুমোদিত সরস্বতী পূজা ২৯ জানুয়ারি। যদি মন্ত্রিসভা থেকে সরস্বতী পূজার দিন ২৯ থেকে পরিবর্তন করে ৩০ জানুয়ারি করা হয়, তখন আমরা কিছু করতে পারব। এটা ছাড়া কমিশন নির্বাচনের দিন পরিবর্তন করতে পারবে না।’
তবে সাজন কুমার মিশ্র বলছেন, ‘কী হবে না হবে, বলতে পারছি না। রংপুরে নির্বাচনের সময় দুর্গাপূজা হলো। তখন আমরা একটা আবেদন করেছিলাম, যাতে ওখানে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু পরিবর্তন করা হয়নি। আসলে এতে আমরা বিব্রত। আমি এটাকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বলে মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় স্কুল-কলেজেই সরস্বতী পূজা হয়। আবার প্রায় স্কুল-কলেজেই ভোটকেন্দ্র করা হয়। একই জায়গায় পূজা ও ভোটকেন্দ্র হলে, ভোটের আগে নির্বাচনী সরঞ্জাম আর নিরাপত্তার একটা বিষয় থাকে। তাহলে যেসব স্কুল-কলেজে কেন্দ্রগুলো পড়বে, সেখানে কিন্তু আর পূজা হচ্ছে না। তাহলে পরিস্থিতিটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দিকে যাচ্ছে না?’

এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি বলেও জানান হিন্দু পরিষদের এ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘কবে ভোট হতে পারে সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নেবে। তবে আমাদের দাবি হলো, পূজার দুদিন আগে ভোট হলে এবং ৩০ জানুয়ারির পরে হলে ভালো হয়।’
ঢাকা দুই সিটির ভোট পরিবর্তনের চিঠি শুধু নির্বাচন কমিশনকে নয়, আরও তিন রাজনৈতিক সংগঠনকে দেয়া হয়েছে বলেও জানান সাজন কুমার মিশ্র। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়েছি। তারপর বৃহত্তর তিনটি রাজনৈতিক দলকে – আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে (জাপা) স্মারকলিপি দিয়েছি।’ বিএনপি ও জাপার পক্ষ থেকে নির্বাচনের দিন পরিবর্তনের জন্য ইসিকে চিঠির আশ্বাস দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। আওয়ামী লীগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দফতরে চিঠি দেয়ার সময় সাধারণ সম্পাদককে পাইনি।’
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব