
প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:২৭

সরাইলে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জয়নব আক্তার (১০) নামে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধারের মাত্র ছয় ঘন্টার মধ্যে অভিনব কৌশলে তদন্ত চালিয়ে এই গুপ্ত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনসহ অপরাধীকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হন সরাইল থানার ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো। তবে গ্রেফতারের স্বার্থে এ ঘটনায় চিহ্নিত অপরাধীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি পুলিশের এই চৌকস কর্মকর্তা। স্কুলছাত্রী জয়নব আক্তারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ও সরাইল সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকবুল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ওসি সাহাদাত হোসেন টিটোকে দিকনির্দেশনা দেন পুলিশের এই দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে প্রাথমিক ব্রিফিং এ ওসি সাহাদাত হোসেন টিটো'র নিজ কার্যালয়ে ইনিউজ৭১কে জানান, স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধারের পর, এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে আমরা মাঠে বিরামহীন তদন্ত কর্মকাণ্ড শুরু করি। নিহতের পরিবার, স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলি এবং এ ঘটনায় অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করতে এক যুবককে থানায় নিয়ে আসি। তার দেওয়া কিছু তথ্যের ভিত্তিতে আমরা মাঠে একাধিকস্থানে সরেজমিনে গিয়ে যাচাই-বাছাই করে আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হই। এই হত্যাকাণ্ড যে ঘটিয়েছে সেই অপরাধীকেও আমরা সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। তবে সেই অপরাধী গাঢাকা দিয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারে পুলিশের একটি বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় জানা গেছে, এ হত্যাকাণ্ডটি সেই অপরাধী একাই ঘটিয়েছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আরও অন্য কেউ জড়িত আছে কি না? সেই অপরাধীকে গ্রেফতারের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওসি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ড উদঘাটন করতে গিয়ে তদন্তে যা পেয়েছেন, এরমধ্যে থেকে তিনি হত্যাকাণ্ডের বর্ণনায় এমন করে জানান, "চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু মেয়েটিকে ডেকে নিয়ে একটি রুমে আটকে ফেলে। পরে মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এতে শিশু মেয়েটি চিৎকার শুরু করলে সেই অপরাধী, মেয়েটির কপালে আঘাত করে। পরে শিশুটির মুখমণ্ডল চেপে ধরে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় সেই অভিযুক্ত বখাটে। এতে স্কুলছাত্রী জয়নব মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে তার লাশ ওই বাঁশঝাড়ে ফেলে আসে। লাশ উদ্ধারের সময় নিহত জয়নবের হাতে চকলেট পাওয়া যায় এবং তার লাশের কপালে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) লাশের ময়নাতদন্ত করানো হবে এবং যেকোনো মূল্যে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হবে বলে ওসি সাহাদাত হোসেন জানান।

এদিকে এ ঘটনায় নিহত জয়নব আক্তারের বাড়ি উপজেলা সদরের পশ্চিম কুট্টাপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার কৃষক বাবা হাফিজ মিয়া মেয়ের শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। মা ফেরদৌসা বেগম এখন বাকরুদ্ধ। জয়নব আক্তার 'পশ্চিম কুট্টাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়' এর চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ছিল, তার মৃত্যুর খবরে গোটা বিদ্যালয়ে শোক বিরাজ করছে।
স্কুল ছাত্রী জয়নাব মৃত্যুর আগে, ঘর থেকে বের হওয়ার সময়ে সে তার মাকে বলে ’মা ভাত বাড় ক্ষুধা লাগছে, দাদার ঘর থেকে ফিরেই ভাত খাবো"। মা ফেরদৌসা বেগম ভাত নিয়ে অপেক্ষায়? ক্ষুধার্ত জয়নাব কি আসবে! মা ফেরদৌস বিলাপ করে কান্না করছে আর বলছে আমার জয়নবের কি আর ক্ষুধা লাগবে না।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব