
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৫৪

বেতন-বৈষম্য নিরসনের এক দফা দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশের ৬৫ হাজার ৯৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় তিন লক্ষাধিক শিক্ষক। এ জন্য কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষকদের এ কর্মসূচির কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষা। জানা গেছে, চলতি মাসের ১৪ থেকে ১৭ অক্টোবর কর্মবিরতি পালনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করবেন শিক্ষকরা। পরে ২৭ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ করে লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হবে।
সূত্র জানায়, ১৪ অক্টোবর এক ঘণ্টা কর্মবিরতি, ১৫ অক্টোবর দুই ঘণ্টা, ১৬ অক্টোবর অর্ধদিবস এবং ১৭ অক্টোবর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন শিক্ষকরা। এছাড়া ২৭ অক্টোবর সহকারী শিক্ষকরা ঢাকায় মহাসমাবেশ এবং সেখান থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। অপরদিকে, ২৭ নভেম্বর থেকে সারাদেশে একযোগে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) এবং ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হবে। সমাপনী পরীক্ষার মাত্র এক মাস আগে শিক্ষকদের এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। অভিভাবকরা জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন শুরু হলেই সমাপনী পরীক্ষায় বিরূপ প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও জানান, ৬ অক্টোবর রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করে ঐক্য পরিষদের আত্মপ্রকাশ এবং সেখানেই বেতন বৈষম্য নিরসনে পরবর্তী করণীয় তুলে ধরা হবে। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের কর্মবিরতি ও মহাসমাবেশের ঘোষণা আসবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে (ডিপিই) মহাপরিচালকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির নেতা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, মন্ত্রণালয় বা ডিপিই থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে, আমরা (ঐক্য পরিষদ) যোগাযোগের চেষ্টা কবরো। এ জন্য ঢাকায় আসছি।

তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয়ের সচিব শিক্ষকদের আন্দোলনে না যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। বেতন বৈষম্যের প্রস্তাব নিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর অর্থসচিবের সঙ্গে তার বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু আমরা এর কোনো অগ্রগতি জানি না। বৈঠক হয়েছে কিনা তাও অবগত করা হয়নি।এদিকে, গত ২৯ জুলাই সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্যের সুষ্পষ্ট প্রস্তাব সকল যৌক্তিক কারণ বর্ণনা দিয়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু ৮ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রণালয় তা নাকচ করে। এতে শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে জোট গঠন এবং কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়।