প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ২০:৫৯

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা চলছে।
একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি অল্প সময়ের মধ্যেই পদত্যাগ করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খানের নাম বিভিন্ন মহলে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বে থাকা এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নামও আলোচনায় এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সাংবিধানিক দায়িত্ব, নির্বাচনকালীন পরিবেশ এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
আলোচনায় আরও উঠে এসেছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। পরে সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলীয় নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে নাকি সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্দলীয় কাউকে বেছে নেওয়া হবে—এ বিষয়েও আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে যেসব নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেগুলোর বেশিরভাগই রাজনৈতিক মহলের অনুমাননির্ভর। আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন মুখ নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা, নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি এবং জাতীয় ঐকমত্য তৈরির সক্ষমতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা অব্যাহত থাকবে।