
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১৬:১৭

রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। সম্ভাব্য নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলায় নির্দিষ্ট এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের সম্ভাব্য কর্মসূচি, বেআইনি সমাবেশ, শোডাউন ও নাশকতার আশঙ্কাকে সামনে রেখে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রোধ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা মহানগর, চট্টগ্রাম মহানগর, গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় সেনা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
এদিকে আগামী ২৩ জুন একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নগরজুড়ে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ২০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থানে বিশেষ পিকেটিং ও চেকপোস্ট পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে নগরের প্রবেশমুখগুলোতে তল্লাশি কার্যক্রম আরও কঠোর করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিটকে সক্রিয় রাখা হয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ডিএমপির ১৮ হাজারের বেশি সদস্য রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করবেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকি করবেন বলে জানানো হয়েছে।