আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা, সহিংসতার অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে কোনো ধরনের সহিংসতার সঙ্গে জড়িত নয় এবং দলটিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে জয় বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো নির্বাচন “হতে দেওয়া হবে না” এবং দলটিকে দমন করা হলে পরিস্থিতি সহিংসতার দিকে যেতে পারে। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন প্রশ্ন করেন, এই বক্তব্য কি সহিংসতার উসকানি নয়?
জবাবে জয় বলেন, “আমি সহিংসতার হুমকি দিইনি। আমি বলেছি, যদি কাউকে সহিংসভাবে দমন করা হয়, প্রতিবাদের সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সহিংসতা সৃষ্টি হতে পারে। আমি আমার কর্মীদের কাউকে হামলা করতে বলিনি।”
তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে আওয়ামী লীগের শত শত কর্মী নিহত হয়েছেন। ত্রিশের বেশি মানুষ হেফাজতে মারা গেছেন। সম্প্রতি দলের এক সংখ্যালঘু নেতা, একজন হিন্দু, কারাগারে নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আল জাজিরার সাংবাদিক তখন ঢাকার ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যায় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত একজনের নাম এসেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সমালোচক হওয়ায় হাদিকে হত্যা করা হয়, যা ছিল রাজনৈতিক প্রতিশোধ।
এ বিষয়ে জয় সরাসরি দায় অস্বীকার করে বলেন, “এই মুহূর্তে যদি আমাদের হত্যাকাণ্ড চালানোর সক্ষমতা থাকত, তাহলে কি এই সরকার টিকে থাকত? আওয়ামী লীগের এমন সহিংস লোক নেই।”
তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে ছাত্রলীগে যুক্ত থাকলেও তার ভূমিকা বা পদ কী ছিল, সেটি স্পষ্ট নয়। “ছাত্রলীগে লক্ষ লক্ষ তরুণ যুক্ত ছিল। একজন কোথাও যুক্ত ছিল মানেই পুরো দল দায়ী—এটা যুক্তিসংগত নয়,”—বলেন জয়।