
প্রকাশ: ৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৮:২৭

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, দরপত্র উন্মুক্ত করে দেওয়ার ফলে তেল আমদানিতে ৩৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। তিনি ৭ ডিসেম্বর, শনিবার, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক সেমিনারে এই তথ্য দেন।
ফাওজুল কবির বলেন, আগে দেশে তেল এবং জ্বালানি খাতে প্রতিযোগিতা ছিল না, যা অনেক ক্ষেত্রে একচেটিয়া ব্যবসার সৃষ্টি করেছিল। তার মতে, "কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না, আপনাদের পরিচয় ছিল, আপনি পাওয়ার প্ল্যান্ট করতে পারতেন, কিংবা ভোলার গ্যাসের একচেটিয়া কাজ নিতেন।" এই সমস্যা দূর করতে, সরকার ২০১০ সালের কালো আইন বাতিল করে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে নতুন নীতি প্রণয়ন করেছে।
তিনি আরও বলেন, "এখন থেকে জ্বালানি খাতে প্রকিউরমেন্ট শুধুমাত্র উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে হবে, এবং আমরা ইতোমধ্যে এর সুবিধা পাচ্ছি।" এর মাধ্যমে খাতের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এছাড়া, তেল আমদানির ক্ষেত্রে রিফাইনারি না থাকলেও বড় ব্যবসায়ীদের টেন্ডারে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ফাওজুল কবির জানান, আগে যেখানে চার-পাঁচজন ব্যবসায়ী টেন্ডারে অংশ নিতেন, সেখানে এখন ১২ জন ব্যবসায়ী অংশ নিচ্ছেন। এতে বাড়তি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, ৩৫ শতাংশ দাম কমানো সম্ভব হয়েছে এবং ৩৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা গেছে।

এছাড়া, এলএনজি (লিকুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস) আমদানিও উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, যা আরও বেশী প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বাজারে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।
এই নতুন পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।