
প্রকাশ: ৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৭:৫০

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী এলাকায় অত্যাধুনিক ড্রোন মোতায়েন করেছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নবভারত টাইমস জানিয়েছে, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী তুরস্কের তৈরি বায়রাকতার টিবি ২ ড্রোন পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে মোতায়েন করেছে। তাদের দাবি, সীমান্ত নজরদারি ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চিকেন নেক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নবভারতের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ড্রোনগুলো নজরদারি এবং নির্ভুল আঘাত হানার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এসব তথ্যের সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় পত্রিকাটি।
ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (আইডিআরডব্লিউ) দাবি করেছে, চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ তুরস্ক থেকে ১২টি বায়রাকতার টিবি ২ ড্রোন কিনেছে। প্রথম ধাপে ছয়টি ড্রোন সরবরাহ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না আসলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব খবর দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। ফ্যাক্ট-চেক সংস্থা রিউমর স্ক্যানার বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত বেশিরভাগ খবরই ভুয়া।
উল্লেখ্য, গত আগস্টে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়। ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারের ঘটনার পর এই উত্তেজনা আরও বাড়ে। ভারতীয় গণমাধ্যমে একের পর এক বিভ্রান্তিকর খবর প্রচার করা শুরু হয়, যা দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা উসকে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি উদ্ভূত পরিস্থিতি দুই দেশের জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর খবর প্রচার দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
ইনিউজ৭১।