প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৪, ২৩:৩৫
ভারতের জন্য ইলিশ রপ্তানির শেষ দিন শনিবার, ৩৬ টন ইলিশ পাঠানো হয়েছে। সরকারের অনুমোদিত মোট ২ হাজার ৪২০ টনের মধ্যে ১৭ দিনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি হয়েছে ৫৩২ টন ইলিশ। ব্যবসায়ীদের মতে, দেশে ইলিশ সংকট এবং দাম বাড়ার কারণে চাহিদা অনুযায়ী রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি। তারা রপ্তানির সময় বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।
শনিবার (১২ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন সাগর ও নদীতে ইলিশ ধরা, মজুত বা বিপণন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ইলিশের প্রজনন মৌসুম শুরু হবে, যা মা ইলিশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ।
এ বছর প্রতি কেজি ইলিশ ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের জন্য গড়ে ১০ মার্কিন ডলারে রপ্তানি হয়েছে, যা দেশের বাজারে ১ হাজার ১৮০ টাকার মতো। তবে দেশের বাজারে ইলিশের দাম তুলনামূলকভাবে আরও বেশি।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৪৯ রপ্তানিকারককে ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়। এরপর থেকেই শুরু হয় ইলিশ রপ্তানি, এবং শনিবার (১২ অক্টোবর) ছিল এই কার্যক্রমের শেষ দিন।
২০০০ সালের পর থেকে, উৎপাদন সংকটের কথা বলে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ২০১৯ সাল থেকে বিশেষভাবে দুর্গাপূজার সময় ইলিশ রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হয়।
জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্বে আসে। সেই সময় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা দুর্গাপূজার জন্য ইলিশের অনুরোধ জানান। কিন্তু সরকার প্রথমে দেশের চাহিদা মিটিয়ে তারপর বিদেশে রপ্তানির কথা ঘোষণা করে।
এখন দেখা যাক, সরকার ভবিষ্যতে রপ্তানির অনুমতি বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং দেশের বাজারে ইলিশের পরিস্থিতি কেমন হয়।