
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৫৫

দুর্গাপূজা উপলক্ষে জঙ্গি হামলা ঝুঁকি দেখছি না। তবে আশঙ্কার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছি না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। আজ রোববার সকালে রাজধানীর জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরীতে পূজার আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে অন্যতম হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এই উৎসব নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেমন প্রস্তুতি থাকে। তেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদেরও একটি প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা নিরাপত্তার দিকটি দেখি। সেদিক দিয়ে বলতে পারি সার্বক্ষণিক পুলিশ ফোর্স মোতায়েন থাকবে। বড় পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। এ ছাড়া ছোট মণ্ডপগুলো পুলিশের মোবাইল টিম দিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।
কমিশনার বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে আমরা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখতে পারছি না। কারণ আমাদের পুলিশ ফোর্সের সদস্যরা যেহেতু ব্যারাকে থাকে। যেকোনো একজন আক্রান্ত হলে পুরো ব্যারাক আক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সে জন্য সব জায়গায় ফোর্স মোতায়েন থাকছে না। কিন্তু নজরদারিটা প্রতি পূজামণ্ডপে থাকবে। এ ছাড়াও বোম ডিস্পোজাল ইউনিট, এসবিসহ সাদা পোশাকে অন্যান্য গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। পুরো শহর জুড়ে সাদা পোশাক ও ইউনিফর্ম এবং র্যাবের সমন্বয়ে আলাদা একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে কেউ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে কেউ সাহস না পায়।

পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কোনোভাবেই যেন স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করা না হয়। এতে আপনি নিজে বিপদে পরবেন। আপনার পরিবারের বয়স্ক যারা আছে তাদের জীবনের প্রতি আপনার আচরণটি বড় বিপদ হয়ে দেখা দিতে পারে। ফলে পূজা মণ্ডপে যিনিই আসবেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে, মাস্ক না পরে কেউ আসবেন না। মাস্ক ছাড়া কেউ মণ্ডপে প্রবেশ করতে পারবে না। বিষয়টি স্বেচ্ছাসেবকেরা শতভাগ নিশ্চিত করবেন। টিকা ছাড়া পরিবারের শিশু ও বয়স্কদের পূজামণ্ডপে আনা যাবে না।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
তালেবান উত্থানে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের দেশের জঙ্গিরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু অভিযান হয়েছে। পূজা উপলক্ষে কোনো ধরনের হুমকি আছে কে না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তরিকুল ইসলাম বলেন, আমরা এমন ঝুঁকি দেখছি না। তবে আশঙ্কার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছি না। কারণ জঙ্গিরা অনলাইনে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা একাকী উৎসাহী হয়ে হামলা চালাতে অনবরত উদ্বুদ্ধ করছে। এ ছাড়া জঙ্গিরা রাতে হামলা চালানোর পরামর্শ দিয়ে যেকোনো মণ্ডপে হামলা চালাতে বলছে। তবে তাদের আহ্বানে কেউ সারা দিচ্ছে এমন কোনো তথ্য আমাদের হাতে নেই।