আদালতে কান্নাকাটি করায় জামিন পেলেন ২ শিশুর মা

নিজস্ব প্রতিবেদক
Md Shoriful Islam, জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার ২৩শে ডিসেম্বর ২০২০ ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
আদালতে কান্নাকাটি করায় জামিন পেলেন ২ শিশুর মা

নানির করা মামলায় বাবা-মা কারাগারে। তাদের জামিনের জন্য প্রতিবেশীর হাত ধরে ঢাকার নিম্ন আদালতের বারান্দায় এসে দুই শিশুর কান্না।কিন্তু জামিন হয়নি তাদের বাবা মায়ের। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদন নজরে নিয়ে ওই দুই শিশুর মাকে বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।  মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) ‘আদালতের বারান্দায় দুই শিশুর কান্না, বিচারের বাণী কাঁদল নিভৃতে’  শিরোনামে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে সংবাদ প্রচারিত হয়।

ওই প্রতিবেদন বুধবার হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনিরুজ্জামান আসাদ, শিশির মনির ও কুমার দেবুল দে।পরে কুমার দেবুল দে জানান, আদালত শুনানি নিয়ে শিশু দুটির মাকে ছয় মাসের জামিন দিয়ে রুল জারি করেছেন। আমার জানা মতে  ইতোমধ্যে আদেশ নিম্ন আদালতে পৌঁছে গেছে। হয়তো শিশু দুটির মা আজকে মুক্তি পেতে পারেন।

এ নিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোর এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, "রবীন্দ্রনাথ তার প্রশ্ন কবিতায় লিখেছিলেন বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে। বেঁচে থাকলে হয়তো এখন তাকে লিখতে হতো বিচারের বাণী সরবে আদালতের বারান্দায় প্রকাশ্যে কাঁদে। বলবো দুই দুগ্ধ শিশুর আদালতে কান্নার গল্প। সারাদিন কেঁদেও যে জামিন করাতে পারেনি তারা। পৃথিবীতে মা ডাকটি যদিও সবচেয়ে মধুর। তবে সেই ডাকেও যে কতোটা কষ্ট আর যন্ত্রণা লুকিয়ে আছে তা কেবল ইয়াসিন জানে। বয়স মাত্র দুই পেরিয়ে তিনের কাছাকাছি, অথচ মা নেই কাছে, নেই মায়ের ঘ্রাণ, আদর আর আবদার। "

"শুধু ইয়াসিনের কথাই বলছি কেনো, হয়তো কাঁদছে না, তবে এক বছরের বড় টুম্পাও যে আদালতের বারান্দায় নিঃশ্চুপ যন্ত্রণায় খুঁজে ফিরছে মাকেই। ""গেলো শুক্রবার থেকে নানির করা মামলায় ১৪ শিকের ভেতর আটকে আছেন মা, সঙ্গে বাবাও, আর সেদিন থেকেই বন্ধ দুই ভাই-বোনের নাওয়া-খাওয়া। মঙ্গলবার সারাদিন তাই ঢাকার সিজেএম কোর্টে অবস্থিত আদালতে ঘুরেছে এ দুই শিশু। সঙ্গে ছিলো না কোনো আত্মীয়স্বজন। প্রতিবেশীরাই তাদের দেখা শোনা করছে এখন।"চুরি ও মারধরের মামলাটি নিজের মেয়ে ওয়াসিমা ও জামাই তোফায়েলের নামে করেছেন মামলার বাদী ৬০ বছরের মোমেনা বেগম। "