প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২১, ১৮:২৬
আগামীকাল পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার কারণে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আজ শনিবার সকাল ভোর থেকেই দৌলতদিয়া ঘাটে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বিভিন্ন উপায়ে ঘাটে আসা যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। কঠোর লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে যানবাহন সংকটে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা এসব যাত্রীর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
কোনো যানবাহন না থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে অনেকটা ফাঁকা অবস্থায় ফেরিগুলোকে পন্টুনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ছোট যানবাহনের চাপ ছিলো চোখে পড়পর মতো। একেবারে বিপাকে পড়া মানুষ বৃষ্টির মধ্যই বের হয়েছে। সেই বৃষ্টি কাদা উপেক্ষা করেই অনেকেই আসছেন ফেরি ঘাটে। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ রিকশায়, অটোতে আবার কেউ ব্যাক্তিগত গাড়িতে।
অনেককে দেখা গেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রিজার্ভ করে ঘাটে আসছেন। তারা এসে সরাসরি ফেরিতে উঠছেন। ফেরিতে ব্যক্তিগত গাড়ি মোটরসাইকেল আর আগত যাত্রীদের নিয়েই ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। ফেরিতে মানা হচ্ছে না কোন স্বাস্থ্যবিধি।
সরজমিনে বেলা ১১ টার দিকে ৫নং ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা ভাষা শহিদ বরকত ফেরিটি দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পৌছালে যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
অতপর যানবাহন ধীর গতিতে আনলোড করার পর দৌলতদিয়াঘাট থেকে কোন প্রকার যানবাহন ছাড়া ফেরিটি প্রায় ৩-৪ হাজার যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
ঝিনাইদাহ থেকে অটোরিকশায় দৌলতদিয়া ঘাটে আসা যাত্রী কাউছার মাহমুদ বলেন, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি বলেন তার অফিস রবিবার খোলা। চাকরির সুবাদে যেতেই হবে ঢাকায়। বউ সহ ছোট বাচ্চা নিয়ে যেতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। তারপর একটু পর পর বৃষ্টি। কঠোর লকডাউনের মধ্যে ঢাকা যাওয়া খুবই কষ্টকর। কিছু করার নেই কয়েকগুন বেশি ভাড়া দিয়েই যেতে হচ্ছে এখন।
অ্যাম্বুলেন্স চালক ফয়সাল বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে প্রচুর মানুষ আসছে। প্রতিটা পল্টুনে যাত্রীর চাপ। ফেরি আসার সাথে সাথেই যাত্রীরা পন্টুনের উপর উঠে যাচ্ছে। আমরা ফেরিতে উঠতে পারছি না। প্রায় ঘন্টাখানেক এখানে দাড়িয়ে রয়েছি।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন বলেন, বর্তমানে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের জন্য ৮ টি ফেরি থেকে বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে ১৬ টিতে করা হয়েছে। যখন যে ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে ছাড়া প্রয়োজন সেভাবেই ছেড়ে যাচ্ছে। তবে কঠোর বিধিনিষিধের কারণে ঘাটে আসা যাত্রী ও যানবাহন সরাসরি ফেরিতে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে।