
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:৪
আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদির আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করছে মার্কিন সেনা। রোববার সেই অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরাকি টেলিভিশন। সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, আইএসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদিকে হত্যার উদ্দেশে ইরাকের উত্তরাঞ্চল থেকে আটটি হেলিকপ্টারে করে গভীর রাতে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমে অভিযান শুরু করে মার্কিন সেনারা। মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের সেই অভিযানের নাম ছিল ‘কায়লা মুয়েলার’। আর এ নামকরণের পেছনে রয়েছেন এক মার্কিন দাতব্য কর্মী। তার নামই কায়লা মুয়েলার। ওই মার্কিন নারীর নামে বাগদাদি হত্যা মিশনের নাম রাখার কারণ হিসেবে জানা গেছে, কায়লা মুয়েলার হত্যাকাণ্ডে আবু বকর আল-বাগদাদি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
২০১২ সালে সিরীয় শরণার্থীদের জন্য কাজ করতে প্রথম তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে গিয়েছিলেন কায়লা মুয়েলার। সে সময় তিনি ২৬ বছর বয়সী নারী ছিলেন। ২০১৩ সালে সিরিয়ার আলেপ্পোতে অপহৃত হন কায়লা। এরপর দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তার অবস্থান নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়। জানা যায়, আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদির অধীনে জিম্মি হয়ে আছেন কায়লা। জিম্মি থাকার সময় ২০১৪ সালে বাবা-মাকে পাঠানো এক চিঠিতে মুয়েলার লেখেন, তোমরা কান্নাজড়িত যেসব চিঠি আমাকে পাঠিয়েছো, সেগুলোর কথা চিন্তা করে আমি কেবল চিঠিই লিখতে পারি। আমি জানি, তোমরা তীব্রভাবে আমাকে ফিরে পেতে চাও। আমি সে জন্য চেষ্টা করছি। এভাবে পেরিয়ে যায় এক বছর। এরপর কায়লা নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রচারিত হয়।
২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিশ্চিত করেন, কায়েলা মুয়েলার নিহত হয়েছেন। আইএসের হাতে আটকের পর নিহত চতুর্থ মার্কিনী তিনি। তবে কায়েলার মৃত্যু নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। সে সময় পেন্টাগন দাবি করেছিল, আইএসই কায়লাকে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে মার্কিন সেনাদের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, আবু বকর বাগদাদি নিজেই মুয়েলারকে নির্মম নির্যাতন করে এবং পরে তাকে হত্যা করে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকে বলা হচ্ছিল, মুয়েলারকে আত্মরক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল বাগদাদি। তবে শুরু থেকে মার্কিন তরফের এসব দাবি অস্বীকার করে আসছে আইএস। তাদের দাবি, জর্ডানের বিমান হামলায় মুয়েলার নিহত হয়েছেন।
আইএস যাই দাবি করুক সেই মার্কিন নারী দাতব্য কর্মী যে আর পৃথিবীতে নেই তা একেবারে নিশ্চিত এবং আইএসই তাকে পাশবিক নির্যাতন করে হত্যা করেছে সে কথায় অনড় মার্কিন প্রশাসন। শনিবার রাতে মার্কিন সেনাদের কায়েলা মুয়েলার অভিযানে নিহত হয়েছেন বাগদাদি। বিষয় নিশ্চিত করে হোয়াইট হাউজে বিবৃতিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, বিশেষ বাহিনীর অভিযানের সময় একটি মৃতপ্রায় সুরঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বাগদাদি। বাগদাদি নায়কের মতো মরতে পারেনি। তিনি মারা গেছেন কুকুরের মতো, কাপুরুষের মতো। কান্না করেছে, চিৎকার করেছে, সন্তানদের কাছে এনেছে মরার জন্য। অবশেষে মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানের সময় একটি সুইসাইড বেল্ট পরা ছিলেন এ আইএস নেতা। বিস্ফোরণের মাধ্যমে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ডিএনএ ও বায়োমেট্রিক পরীক্ষা করে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হবে বলে জানায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। প্রসঙ্গত বাগদাদি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিলে আইএস মিডিয়া শাখা আল-ফুরকান একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল, যাতে এক ব্যক্তিকে বাগদাদি বলে উল্লেখ করা হয়। এর আগে সর্বশেষ ২০১৪ সালের জুলাইয়ে মসুলের এক মসজিদে তাকে দেখা গিয়েছিল।
ইনিউজ ৭১/এম.আর