প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২১, ৪:১৫
আশঙ্কাই সত্যি হলো। কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে এবার বিস্ফোরণ ঘটেছে। সেই সঙ্গে বিমানবন্দর চত্বরে এলোপাথাড়ি গুলিবৃষ্টি ঘিরে মাুনষের মধ্যে ছড়িয়েছে আতঙ্ক ও তুমুল উত্তেজনা। এ ঘটনায় শিশুসহ ১৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে তিন আমেরিকান সেনা ও বেশ কয়েক জন তালেবান সেনা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরণটি আত্মঘাতী হামলা হতে পারে।
তালেবান দখলে চলে যাওয়ার পর প্রাণ হারানোর আশংকায় অনেক নাগরিক দেশ ছাড়তে মরিয়া হয়ে কাবুল বিমানবন্দর এলাকার ভেতরে-বাহিরে ভিড় করছে। বিমানবন্দরে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র নেটো জোটের সেনা ও তাদের স্থানীয় সহযোগী ও সমর্থকরা। এ পরিস্থিতির মধ্যে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলো। খবর বিবিসির
বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) রাত পৌনে ৮টার দিকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন। সন্ত্রাসী হামলার সতর্ক তা জাজিরর পর বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমানবন্দরের অ্যাবি গেইটে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এ প্রবেশ পথে ব্রিটিশ সৈন্যরা জড়ো হয়েছিল এবং সেখানে নিরাপত্তা দেখভাল করছিল।
কাবুল বিমানবন্দরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘ভয়াবহ’ হামলা হতে পারে বলে যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী জেমস হ্যাপির আশঙ্কা প্রকাশের পরই এ হামলার খবর সামনে এলো।িএদিকে আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আত্মঘাতী বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে আরম্ভ করে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। বিমানবন্দর চত্বরে আমেরিকার সেনাদের ঘিরে থাকা যে এলাকায় আফগানিস্তান ছাড়তে চেয়ে ভিড় জমিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ, সেথানেই বিষ্ফোরণ ঘটনা হয় বলে খবর মিলেছে।
এর আগে একই দিনে কাবুল বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের সেখানে ভ্রমণ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল। যারা এর মধ্যে বিমানবন্দরের বাইরে রয়েছেন তাদের অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলার একটি চলমান এবং অত্যন্ত উচ্চ হুমকি রয়েছে বলে জানান অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী মারিস পেইন।
তালেবানের হাতে কাবুলের পতনের পর গত ১১ দিনে ৮৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে দেশটি থেকে বিমানে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখনও হাজার হাজার আফগান দেশ ছাড়ার জন্য বিমানবন্দরের বাইরে ও ভেতরে অপেক্ষা করছে। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দ্রুত কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশগুলো।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন জানান, ৩১ আগস্টের নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি তালেবান নাকচ করে দিলেও এই সময়ের পর দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও আফগানদের দেশত্যাগে বাধা দিবে না তারা।
বুধবার এক নিরাপত্তা বিষয়ক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, আফগানিস্তান ছাড়ার জন্য কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাবেই গেট, পূর্ব গেট এবং উত্তর গেটে অপেক্ষারত মানুষকে অবিলম্বে সরে যেতে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
এর আগে একই ধরনের পৃথক একটি নির্দেশনায় যুক্তরাজ্য সরকারও সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করতে পরামর্শ দেয়। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায় , আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ এবং যেকোনো সময় সেখানে সন্ত্রাসী হামলার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কি ধরনের নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্য।