ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আইন অনুষদের আয়োজনে ৭১তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২ টায় আইন অনুষদের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব চত্বরে এসে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডলের সভাপতিত্বে র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ সেলিম তোহা, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহজাহান মন্ডল, সহকারী অধ্যাপক ড. আরমিন খাতুন, আল-ফির্কহ্ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন, আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মেহেদী হাসানসহ অনুষদভুক্ত শিক্ষার্থীরা। র্যালি শেষে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অালোচনা সভায় উপস্থিত অতিথিরা বক্তব্য প্রদান করেন।
আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডল বলেন, "এই দিনটি যে পালিত হচ্ছে এর পিছনে এই বিশ্বের বহু মানুষের রক্ত , শ্রম রয়েছে। ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। এটি এমন একটি অধিকার যা লঙ্ঘন করা যায় না এবং হস্তান্তর করা যায় না। লংঘন করলে একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব সম্পূর্ণরূপে বাঁধাগ্রস্ত হয়। মানবাধিকার লংঘন প্রতিরোধ করাই হচ্ছে বর্তমান সভ্যতার সবচেয়ে বড় দাবি। যদি মানুষের সহজাত এবং অহস্তান্তরযোগ্য অধিকার লঙ্ঘিত না হয় তাহলেই একদিন এই সভ্যতা মানুষের বসবাসের যোগ্য একটি শান্তিপূর্ণ নিরাপদ সভ্যতায় পরিণত হবে যা আমরা আশা করছি।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, "অধিকারের কোনো জাত, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা কোন ভৌগলিক সীমারেখা নেই। সকলের জন্যই সমভাবে প্রযোজ্য সেটিকেই বলে মানবাধিকার। শুধু তাই নয় সম্মান এবং মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার নামও মানবাধিকার। একটি জাতি কখন ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় যখন একজন বা দুইজন মানুষ মানুষের অধিকার লঙ্ঘন করে, মানুষকে অত্যাচার করে, মানুষকে ব্যথা দেয়, মানুষকে নিপীড়ন করে। আর সকল যে মানুষ সেটিকে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে এবং জেনেও না জানার ভান করে , সেটির জন্য যখন প্রতিবাদমুখর না হয় তখন সে জাতির জন্য ভয়াবহ কালো মেঘ নেমে আসে।
তিনি আরো বলেন, এবারের দিবস যুবক সমাজের জন্য যে তাৎপর্য নিয়ে এসেছে এর মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন হবেন এবং তারা অধিকার সচেতন হবেন। এই রাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা তাদের লেখাপড়ার পাশাপাশি মনোযোগী হবে তাহলে এদেশের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর হবে। এরই মাধ্যমে দিবসটির তাৎপর্য অর্থবহ হবে। আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করি নিশ্চয়ই বাংলাদেশ একদিন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।"