
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২:৫৪

পরিকল্পিতভাবে গৃহস্তের ঘরের কাজের লোক সেজে এক শিশু অপহরণপূর্বক মুক্তিপন দাবী করেছে একটি অপহরণকারীচক্র। মুক্তিপনের আংশিক টাকা প্রদানের বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে দেবীদ্বার থানা পুলিশের একটি দল ঢাকা, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় ২ দিনের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে অপহরণকারী দলের দুই সদস্য মোঃ কাসেম মিয়া(৪৫) ও তার স্ত্রী মোসাঃ সামিয়া বেগম(৩০)কে আটক করে। তাদের স্বীকরোক্তিনুযায়ী হবিগঞ্জ জেলা থেকে অপহৃত ভিক্টিম আব্দুল্লাহ আল মামুন(৬)কে উদ্ধার করা হয়।
রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে আটক মোঃ কাসেম মিয়া ও তার স্ত্রী সামিয়া বেগম এবং উদ্ধার হওয়া শিশু আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কুমিল্লা ৪নং আমলী আদালতে হাজির করা হলে, আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ওমর ফারুক ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্ধি লিপিবদ্ধ করেন। আদালতে আসামীরা শিশু আব্দুল্লাহ আল মামুনকে অপহরণ করার দায় স্বীকার করেন এবং ভিক্টিম আব্দুল্লাহ আল মামুন অপহরণের ঘটনার বর্ণনা দেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ফেব্রুয়ারী) বিকেল ৫টায় দেবীদ্বার উপজেলার ৯নং গুনাইঘর (উঃ) ইউনিয়নের ছেপাড়া গ্রামের ইদিল সরকার বাড়িতে অপহরণের ঘটনাটি ঘটে। অপহৃত শিশু আব্দুল্লাহ আল মামুন ওই বাড়ির আব্দুস সামাদ(৬৩)’র পঞ্চম পুত্র।
ওই ঘটনায় ভিক্টিম আব্দুল্লাহ আল মামুন(৬)’র পিতা আব্দুস সামাদ(৬৩) বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারী) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২৩০)’র ৭/৮/৩০ ধারায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৬।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন,- হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার পিটুয়ারকান্দি গ্রামের মৃতঃ আব্দুর রহিমের পুত্র আবুল বাশার(৩৮), আবুল বাশারের স্ত্রী মোসাঃ ফারজানা আক্তার(৩০), মোসাঃ ফারজানা আক্তারের বড় বোন ও মৃত: আব্দুর রহিমের মেয়ে আর্জিনা বেগম(৩২), কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার প্রজারকান্দি গ্রামের মৃতঃ ওয়াজ উদ্দিনের পুত্র মোঃ কাসেম মিয়া(৪৫) ও তার স্ত্রী মোসাঃ সামিয়া বেগম(৩০)। কাসেম মিয়া ও সামিয়া বেগম সম্পর্কে আবুল বাশারের ভগ্নিপতি ও বোন।

মামলার বাদী আব্দুস সামাদ জানান, প্রায় ১০/১২ দিন পূর্বে আবুল বাশার নামে একজন দিনমজুরকে তার বাড়িতে কৃষিকাজ করার জন্য রাখা হয়। দিনমজুর আবুল বাশার এ কয়েকদিনের মধ্যেই তার পরিবারের সদস্যদের আপন হয়ে উঠে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) বিকেল ৫টা থেকে তার সন্তান আব্দুল্লাহ আল মামুনকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। সাথে দিনমজুর আবুল বাশারও নিখোঁজ হয়ে যায়। সারা রাত খুঁজে না পেয়ে পরদিন শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) ভিক্টিমের পিতা দেবীদ্বার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন। নিখোঁজ ডায়েরী নং- ৮৫৭।
নিখোঁজ ডায়েরী করার পর ওইদিনই অপহরণকারী আবুল বাশারের বোন সামিয়া বেগম ও ভগ্নিপতি কাসেম মিয়া তাদের ০১৯৭৭১৬১৮৩০ ফোন নম্বর থেকে অপহৃতর পিতা আব্দুস সামাদকে ফোন করে মুক্তিপন বাবত ওই নম্বরে বিকাশে ২০হাজার টাকা পাঠাতে বলে। ভিক্টিমের পিতা ৩ হাজার টাকা বিকাশে পাঠান এবং বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহীত করেন।
ওই সংবাদের পর দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) নিশান চন্দ্র বল ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান একদল পুলিশ নিয়ে মোবাইল ট্র্যাকিং করে অভিযান চালান। তারা গাজীপুর টঙ্গী থানা পুলিশের সহযোগীতায় টঙ্গী পূর্ব থানার পাগারবটতলা গ্রামের রোকন মিয়ার ভাড়া বাসা থেকে সামিয়া ও কাসেম মিয়াকে আটক করেন। এসময় প্রধান আসামী আবুল বাশার অপহৃত শিশুকে নিয়ে পালিয়ে যায়। আটক সামিয়া ও কাসেমকে নিয়ে নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা এলাকায় আবুল বাশারের শ্বশুরের বাসায় তল্লাসী চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তাদের নিয়ে হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগীতায় যৌথ ব্লক রেইড দিয়ে বদলপুর ইউনিয়নের ফিরিজপুর বাজারে অভিযান চালান। এসময় ভিক্টিম শিশুটি নিয়ে আত্মগোপনে থাকা প্রধান অভিযুক্ত আবুল বাশার, তার স্ত্রী ফারজানা বেগম(৩০) ও তার স্ত্রীর বড় বোন আর্জিনা বেগম(৩২) পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ ভিকটিম মামুনকে মোঃ হেলিম মিয়ার চাউলের আরৎ এর সামনে থেকে উদ্ধার করে।
দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ কমলকৃষ্ণ ধর বলেন, ভিক্টিমের বাবা থানায় মামলা করেছেন। পুলিশি অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী দলের ২সদস্যকে গ্রেফতারসহ ভিক্টিমকে উদ্ধার করে কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতরা আদালতে বিচারকের নিকট অপহরণের দায় স্বীকার করেছেন।