শুনানী শেষে মহানগর দায়রা জজ আদালতের জজ কে এম ইমরুল কায়েশ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪, মানিলন্ডরিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭ এর আলোকে ব্যাংক হিসাবসমূহ অবরুদ্ধের (ফ্রিজ) আদেশ প্রদান করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক সচিব ড. মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বাণিজ্য প্রতিদিনকে বলেন এখন পর্যন্ত আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। মামলার অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক জালাল উদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যাংকসমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণকে আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
এসপি এবিএম মাসুদ ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ মোট ১০ জনের নামে ২৬টি ব্যাংক হিসাব পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি ব্যাংক হিসবা ছিল এসপি মাসুদ, মোস্তফা কামাল ও আশরাফুল ইসলামে সম্মিলিত হিসাব। তাদের হিসাবে সর্বশেষ স্থিতি পাওয়া যায় ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। যার মধ্যে প্রদীপ কুমার দাশের এক্সিম ব্যাংক চট্টগ্রাম জুবলী শাখায় ৩০,৪৪,৫৫২ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক কাওরান বাজার শাখায় ৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। এছাড়া স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ওয়েজ আরনার্স বন্ডে ১২ লাখ টাকা রয়েছে।
ব্যাংক হিসাব কবে নাগাত (ফ্রিজ) থেকে অব্যাহতি পেতে পারে এমন বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আদালত তাদের ব্যাংক হিসাব (ফ্রিজ) করেছেন। অধিকাংশ সময় দেখা যায় এ হিসেবের টাকা সরকারি ফান্ডেই চলে যায়।
এবিএম মাসুদ হোসেনের ডাচ বাংলা ব্যাংকের বরিশাল শাখায় ১৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকা, ট্রাস্ট ব্যাংকের বরিশাল শাখায় ২৬ হাজার টাকা ও ইসলামী ব্যাংকের মৌচাক শাখায় ১৫ হাজার টাকা ও সিটি ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংকে ক্রেডিট লিমিটে ৪ লাখ টাকা রয়েছে। এছাড়া এবিএম মাসুদ, মোস্তফা কামাল ও আশরাফুল আলম নামে সম্মিলিত হিসেবে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা রয়েছে।
একই মামলার আসামি মো. লিয়াকত আলীর ডাচ বাংলা ব্যাংকের ও আর নিজাম রোড শাখায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা রয়েছে। এছাড়া চুমকি কারণ, দিলীপ দাশ, জেনিফার রেবেকা, মো. আবরার যারিফ ও মো. জাওয়াদ রাফিদ এর ব্যাংক হিসেবে বিভিন্ন অংকের টাকা রয়েছে।
গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি মামলা করে। পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে ৯ জনকে আসামি করা হয়।
আসামিরা হলেন- টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ, টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী, উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. মোস্তফা ও এসআই টুটুল। এদের মধ্যে আসামি মোস্তফা ও টুটুল পলাতক।