ভাইরাল জ্বরে ভুগছিলেন, বঙ্গবন্ধু বিপিএলের চট্টগ্রামপর্বে তামিম ইকবাল খেলবেন কিনা সংশয় ছিল সেটা নিয়েই। কিন্তু সব প্রতিবন্ধকতা দূরে ঠেলে দেশসেরা ওপেনার সোমবারই ফেরেন মাঠে। সেদিন অবশ্য তার পারফরম্যান্স মন ভরাতে পারেনি চট্টগ্রামবাসীর। ঘরের ছেলের কাছ থেকে যে আরও বেশি চাওয়া ছিল তাদের। মঙ্গলবার চট্টগ্রামপর্বের শেষদিনে চাওয়াটা অপূর্ণ রাখেননি এই বাঁহাতি, খেলেছেন ৬০ রানের হার না মানা ইনিংস। তামিমের ব্যাটে ওই ইনিংসেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে লেখা হয়েছে আরেকটি প্রথমের ইতিকথা। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিপিএলে দুই হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
এই প্রথমটা লেখা হতে পারত মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে। বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের মালিক হওয়া নিয়ে তামিমের সঙ্গে তার দ্বৈরথটা বেশ জমজমাট। জাতীয় দলের দুই তারকা ব্যাটসম্যান মেতেছেন একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে। সর্বোচ্চ রানের মালিক হিসেবেই সপ্তম বিপিএল শুরু করেন তামিম। কিন্তু কদিন আগে তাকে ছাপিয়ে যান মুশফিক। এরপর তামিম অসুস্থ হয়ে মাঠ থেকে ছিটকে গেলেন, সবার ভাবনা ছিল শীর্ষে থাকা মুশফিকই সবার আগে দুই হাজারী রানের ক্লাবে প্রবেশ করবেন। কিন্তু খুলনা টাইগার্স দলপতি শেষ দুই ম্যাচে ছিলেন নিষ্প্রভ।
অন্যদিকে তামিম মাঠে ফিরে শেষ দুই ম্যাচে আলো ছড়িয়েছেন। সোমবার কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ৩৪ রান করার পর মঙ্গলবার সিলেটের বিপক্ষে ৪৯ বলে খেললেন ৬০ রানের ইনিংস। তাতেই বাজিমাত। এদিন ব্যাটিং শুরুর আগে মাইলফলক থেকে ৩১ রান দূরে ছিলেন তামিম, সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে এখন তিনি ২ হাজার ২৯ রানের মালিক। ৬২ ইনিংসে ৩৬.৮৯ গড়ে এই রান করেছেন তিনি। একটি সেঞ্চুরির সঙ্গে হাঁকিয়েছেন ১৮টি হাফসেঞ্চুরি।
আপাতত দুইয়ে থাকা মুশফিকের রান ১ হাজার ৯৩৭। গড় ৩৩.৯৮। ৭২ ইনিংসে কোনো সেঞ্চুরি না থাকলেও ১২টি হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন এই কিপার ব্যাটসম্যান। সর্বোচ্চ ৯৬, এই বিপিএলেই রাজশাহী রয়্যালসের বিপক্ষে করেছিলেন খুলনা দলপতি। মুশফিকের থেকে অনেকটা পিছিয়ে তিনে আছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৭৪ ইনিংসে তার রান ১ হাজার ৬৯৫। গড় ২৫.৬৮। কোনো সেঞ্চুরি নেই, তবে ৯ বার পূর্ণ করেছেন হাফসেঞ্চুরি। ৭৪ ইনিংসে ১ হাজার ৫৬৭ রান নিয়ে চার নম্বরে ইমরুল কায়েস। সেঞ্চুরি নেই এই বাঁহাতিরও। ২৩.৬৮ গড়টাও খুব বেশি মন্দ নয়। নিষেধাজ্ঞার কারণে এবারের বিপিএলে না থাকা সাকিব আল হাসান রান স্কোরারের তালিকায় আছেন পাঁচে। ৭৫ ইনিংসে তার রান ১ হাজার ৪৮৩। গড় ২৫.১৩।