গ্রোনিনজেন ইউনিভার্সিটি গবেষকরা জানান, করোনা উপসর্গে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর ১৩২টির কোনো পেশাগত তথ্য পাওয়া যায়নি। বাকি ২৫৪ মৃত ব্যক্তির পেশাগত তথ্যে দেখা গেছে, এর মধ্যে কৃষক, নানা ধরনের শ্রমিক (গার্মেন্ট শ্রমিক, চা শ্রমিক, দোকান শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, ইটভাটা শ্রমিক, গৃহ শ্রমিক, স্টিল শ্রমিক), চালক (রিকশাচালক, ভ্যানচালক, ট্রলিচালক, সিনজিচালক), জেলে, মাঝি এবং দিনমজুর মারা গিয়েছেন ৬৭ জন (২৬.৪ শতাংশ)। এছাড়া শিশু, বৃদ্ধ, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, কর্মক্ষম নন এমন প্রতিবন্ধী মারা গেছেন ৫০ জন। এরপর গৃহিণী মারা গেছে ৩৭ জন (১৪.৬ ভাগ), শিক্ষার্থী মারা গেছে ২৩ জন (৯.০১ ভাগ)। বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ী (কাপড় ব্যবসায়ী, দোকান ব্যবসায়ী প্রভৃতি) মারা গেছেন ১৮ জন। নানা ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বিক্রেতা (মাছ বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতা, ডিম বিক্রেতা, হকার ও ফেরিওয়ালা) মারা গেছেন ১১ জন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারী মারা গেছেন ১৪ জন। চিকিৎসক, ডেন্টাল সার্জনসহ স্বাস্থ্যকর্মী মারা গেছেন ৭ জন, শিক্ষক ৬ জন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের কর্মকর্তা মারা গেছেন ৫ জন, পুলিশ, আনসার, নৌবাহিনীর সদস্য মারা গেছেন ৪ জন এবং সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী মারা গেছেন ৩ জন। ৮ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৬১টি জেলায় করোনা উপসর্গে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ২৫ জন মারা গেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলায়। দেশে সংক্রমণ শনাক্তের ওই দুই মাসেই ১০ বা ১০ এর বেশি ব্যক্তি করোনা উপসর্গে মারা গেছেন, সেসব জেলা হচ্ছে- লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুর, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, বগুড়া, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, খুলনা ও চট্টগ্রাম। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে ১৫ জন নারায়ণগঞ্জ সদরে। এরপর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ও শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ৮ জন করে মৃত্যু হয়।