প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২১, ৩:২০
চলমান লকডাউনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলের কারণে কুষ্টিয়া শহরের প্রধান সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা থাকলেও। অলিগলি ও পাড়া-মহল্লার সড়ক লোকে লোকারণ্য।
অলিগলির এসব সড়কে কিশোর ও উঠতি বয়সি তরুণদের আড্ডা চলছে যত্রতত্র। বয়স্করাও ঘরে থাকছেন না। তারা গালগল্পে মেতে উঠছেন। যেন মানুষে মানুষে ঠাসাঠাসি, নেই শারীরিক দুরত্বের বালাই।
রবিবার (২৭ জুন) শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
লকডাউনে শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বাঁশ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ ছোট-খাট যানবাহন চলাচল করতে না পারলেও লোকজন আসা যাওয়া করছে।
সচেতন মহল বলছেন, গলির আড্ডায় লাগাম নেই। শহরের বিভিন্ন অলি-গলি ও মহল্লা লোকে লোকারণ্য। দোকান, বাজারে রয়েছে সর্বত্র ভিড়। কোথাও মানা হচ্ছে না বিধিনিষেধ। সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলের কারণে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকলেও অলিগলিতে যেভাবে আড্ডা, খোশগল্প চলছে। এতে লকডাউন কোন উপকার আসবে না।
কুষ্টিয়া মজমপুরে গলির ভেতরে একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন কয়েকজন যুবক। জানতে চাইলে বলেন, ঘরে আর কতক্ষণ। চা খেয়ে বন্ধুদের সাথে একটু আড্ডা দেবো। তারপর বাসায় চলে যাবো।
শহরের কোর্ট পাড়ায় গলির রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিলো চার কিশোর। তাদের সবাই এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।
কিন্তু করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় স্থগিত হয়ে যাওয়া পরীক্ষা নিয়ে চলছিলো তাদের আড্ডা। এদের একজন সাব্বির বললো আসলে ঘরে বসে থাকতে থাকতে বোর হয়ে গেছি। এ সময় পরীক্ষার পড়াও পড়তে ইচ্ছা করছে না। কারণ, পরীক্ষা কবে হবে তার কোনো ঠিক নেই।
এসময় আমিরুল নামের একজন বলেন, লকডাউন কি শুধু দিনের জন্য, রাতের জন্য না? অফিস বন্ধ, গাড়ি চলাচল বন্ধ। কেউই কুষ্টিয়ার বাইরে যেতে পারবে না, আর শহরের বাইরে থেকেও কেউ আসতে পারবে না। কিন্তু এখন গণপরিবহন বন্ধ আর অফিস খোলা।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি না হলে লকডাউন কার্যকর করা কঠিন। তারপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবিরাম পরিশ্রম করছেন, জেল-জরিমানাও করা হচ্ছে।
তারপরও লোকজন ঠেকানো যাচ্ছে না। পুলিশ চলে গেলেই তারা আবার আড্ডায় মেতে উঠছেন। তবে, এ বিষয়ে প্রশাসন কঠোর ভূমিকায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।