বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আগেই সেমিফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছিল। তাই দুই দলের লড়াই ছিল শুধুই নিয়মরক্ষার। তবে ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আগেই বাধ সাধে বৃষ্টি। শেষ পর্যন্ত রাওয়ালপিন্ডির ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়, ফলে দুই দলকেই এক পয়েন্ট করে ভাগ করে নিতে হয়। এতে এই আসরে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি হলো এই এক পয়েন্ট।
এর আগে একই মাঠে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচও। এবার একই পরিণতি হলো বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ম্যাচের। বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও ম্যাচটি শুরু করার অপেক্ষা করা হচ্ছিল। কিন্তু গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির তোড় বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য হন আম্পায়াররা।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটি বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে আবহাওয়া অফিস আগেই জানিয়ে দিয়েছিল বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা। শেষ পর্যন্ত সেই শঙ্কাই সত্যি হলো, মাঠে টস পর্যন্ত হতে পারেনি। বাংলাদেশ-পাকিস্তান ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি ছিল হতাশার একটি দিন।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের হারে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিদায়। গ্রুপ পর্ব থেকে সেমিফাইনালে উঠেছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। তবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নিজেদের শেষ ম্যাচেও কোনো জয় পেল না, যা তাদের সমর্থকদের জন্য আরও হতাশার।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এখন পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেটে ৩৯ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র পাঁচবার, আর পাকিস্তান জিতেছে ৩৪টি ম্যাচ। আইসিসি ইভেন্টে বাংলাদেশের একমাত্র জয় ১৯৯৯ বিশ্বকাপে। তবে পাকিস্তানের মাটিতে এখনও কোনো জয় পায়নি বাংলাদেশ।
রাওয়ালপিন্ডির এই ম্যাচটি বাংলাদেশ-পাকিস্তানের জন্য ছিল আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ। তবে বৃষ্টির কারণে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো সুযোগই হলো না। বাংলাদেশের সমর্থকরা আশা করছিলেন অন্তত একটি জয় পেয়ে দেশে ফিরবে দল, কিন্তু তা আর হলো না।
বাংলাদেশের পুরো আসরটাই ছিল হতাশার। দলটি কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি, পারফরম্যান্সেও ছিল না ধারাবাহিকতা। ব্যাটিং-বোলিং উভয় বিভাগেই দল পিছিয়ে ছিল। পাকিস্তানের অবস্থাও ভালো ছিল না, কারণ তারাও জয়শূন্য থেকেই বিদায় নিল।
এই টুর্নামেন্ট থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনা সাজানো জরুরি হবে বাংলাদেশের জন্য। দলের ব্যাটিং লাইনআপে বড় পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়াই হতে পারে দলের একমাত্র আশার আলো।
আপনার মতামত লিখুন :
বি: দ্র: প্রিয় পাঠক সমালোচনা আপনার অধিকার । তবে ভাষাটাও মার্জিত হতে হবে। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।