প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১২

কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমন মিয়া (৩৫) নামে এক অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।
পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর গ্রামের উত্তর পাড়ায় ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের বাবা মেয়েকে জান্নাতুল তাজমিন হিসেবে শনাক্ত করেন।
তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় থাকত সে। নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল তাজমিন।
এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সুমন মিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে বাসায় ফেরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। ৩০০ টাকা ভাড়া ঠিক করে চালক সুমনের গাড়িতে ওঠে সে। তবে গন্তব্যে যাওয়ার কথা বলে চালক তাকে অন্য পথে নির্জন এলাকায় নিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, নির্জন স্থানে পৌঁছানোর পর তাজমিন আতঙ্কিত হয়ে গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় তাকে আটকে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করা হয়। তাজমিন চিৎকার করলে সুমন তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরে। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য, হত্যার পর তাজমিনের ব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থলে সিএনজি রেখে সেখান থেকে চলে যান অভিযুক্ত। পরে ফোনটি ঝালমুড়ি বাজার এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান তিনি।
গত ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে, ঝালমুড়ি বাজার এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।