আজ ঈদের ছুটির শেষ দিন হওয়ায় জামালপুর বাসটার্মিনালে হাজারো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ছুটি শেষে কাল থেকে দেশের সকল অফিস-আদালত, পোশাক কারখানা এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খুলে যাচ্ছে। ফলে রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের উদ্দেশ্যে ছুটে আসা যাত্রীদের জন্য বাসের চাহিদা অনেক বেশি হলেও বাসের সংখ্যা ছিল কম, যার ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়ে গেছে।
জামালপুর বাসটার্মিনালে সকাল থেকেই যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদের পরদিন থাকার কারণে বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি, বাসের সংখ্যা কম থাকায় ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে। জামালপুর থেকে বাইপাইলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা আনোয়ার নামের এক যাত্রী বলেন, “ঈদের আগে ভাড়া ছিল ২০০-২৫০ টাকা, কিন্তু আজ ভাড়া ৪৫০-৫০০ টাকায় চলে গেছে। কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি কাউন্টারের সামনে, তবুও বাসের দেখা নেই।”
আরেক যাত্রী, রানা, ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যাত্রীদের দুরবস্থা দেখে কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ভাড়া বাড়িয়ে ৪০০ টাকার ভাড়া ৬০০-৭০০ টাকা করা হচ্ছে। অথচ সুনির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, তার কোনো বাস্তব প্রয়োগ নেই। পরিবহন মালিকরা ইচ্ছেমতো যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে।”
বাস চালক ও কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেন, বাড়তি চাপ, যানজট এবং অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনার কারণে তাদের খরচ বেড়েছে। তবে, তাদের দাবি, আগের ভাড়াতেই যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে এবং কোন বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না।
তবে জামালপুর শহরের বাসটার্মিনালগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তদারকি চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ যাত্রীদের। সচেতন ব্যক্তি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, “প্রতিবছর ছুটি শেষে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, অথচ কোনো কার্যকর পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি থাকে না। যদি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষকে এই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।”
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, “ঈদ উপলক্ষে আগে থেকেই বাসের সংখ্যা বাড়ানো, তদারকি জোরদার করা এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"